বছরের এই সময়ে কাশ্মীর উপত্যকায় চিনার গাছের পাতা সবুজ থেকে হলুদ, তারপর গাঢ় লাল আর লালচে-বেগুনিতে বদলে যায়। এর পেছনের বিজ্ঞান নিয়ে ছবিঘর প্রকাশ করেছে কলকাতার এই সময়।
শীতের আগে দিন ছোট হয়ে এলে আর তাপমাত্রা নামতে শুরু করলে চিনার গাছ পাতা ঝরানোর প্রস্তুতি নেয়। আগামী বসন্তে নতুন করে বেড়ে ওঠার জন্য পাতা থেকে দরকারি পুষ্টি সরিয়ে নেয় কাণ্ড ও শিকড়ে। এ সময় পাতার সবুজ ক্লোরোফিল ভাঙতে থাকে, আর আড়ালে থাকা ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল ভেসে উঠে পাতায় আনে হলুদ ও কমলা রং।
গাঢ় লালের রহস্য অ্যান্থোসায়ানিন। বিজ্ঞানীদের মতে, শরতে পাতায় শর্করা বাড়লে আর সূর্যের আলো ও ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে এই রঞ্জক তৈরি হয়, যা চিনারের পাতায় আনে গাঢ় লাল ও বেগুনি আভা।
চিনারের সঙ্গে কাশ্মীরের সম্পর্ক বহু পুরোনো। মুঘল সম্রাটরা শ্রীনগরের নাসিম বাগ থেকে উপত্যকার নানা প্রান্তে এই গাছ লাগিয়েছিলেন, আর কাশ্মীরের শাল ও কার্পেটের নকশাতেও চিনার পাতার ছাপ দেখা যায়।
অসচেতনতা ও গাছ কাটায় এই ঐতিহাসিক গাছগুলো বিপদে পড়েছিল। তাই ২০২৫ সালের শুরুতে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন ‘ট্রি আধার’ নামে উদ্যোগ নেয়: প্রতিটি চিনারকে আলাদা নম্বর দিয়ে জিপিএস বা জিও-ট্যাগিংয়ে ম্যাপ করা হচ্ছে। এতে ২৮ হাজার ৫৬০টির বেশি গাছের বয়স, উচ্চতা, স্বাস্থ্য ও অবস্থানের ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি হয়েছে, যা অবৈধভাবে গাছ কাটা ঠেকাতে সাহায্য করছে।
প্রতিবেদন: রহিত পরামানিক, এই সময়।
ছবি: শরতে চিনার গাছ (Platanus orientalis), Rangbaz / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)