ইসলামে হালাল ও হারামের বিধান স্পষ্ট, তবু জীবনের কিছু বিষয়ের বৈধতা নিয়ে অনেকের মনে সংশয় থাকে। এমন ক্ষেত্রে মুসলিমের করণীয় নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনে লিখেছেন ফারজিয়া হোসেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি পরিচিত হাদিসের আলোকে।
নুমান ইবনে বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট, আর এ দুয়ের মাঝখানে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়, যা অনেক মানুষ জানে না। যে সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীন ও সম্মান নিরাপদ রাখে; আর যে তাতে জড়িয়ে পড়ে, সে হারামে জড়িয়ে পড়তে পারে (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।
ইসলামি পরিভাষায় সন্দেহজনক বিষয়কে বলা হয় ‘শুবহাত’। কোনো কাজের বৈধতা সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকা, দলিল বুঝতে অসুবিধা বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিধান প্রযোজ্য কি না, এ নিয়ে সংশয় থেকে তা তৈরি হয়। এমন ক্ষেত্রে নিজের ধারণায় কোনো কিছুকে হালাল বা হারাম ঘোষণা না করে নির্ভরযোগ্য জ্ঞান ও প্রমাণের ভিত্তিতে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
হাদিসে দেওয়া উদাহরণে, নিষিদ্ধ চারণভূমির কাছে পশু চরালে পশু সেখানে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে; তেমনি হারামের কাছাকাছি থাকলে অজান্তে নিষিদ্ধ কাজে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। লেখায় মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভালো নিয়ত থাকলেই নিষিদ্ধ কাজ বৈধ হয়ে যায় না, আবার সন্দেহ হলেই কোনো কিছুকে নিশ্চিতভাবে হারাম বলাও ঠিক নয়।
কাজ, ব্যবসা, আয় বা লেনদেনের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ হলে করণীয়: নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ, কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে বিধান জানা, প্রয়োজনে যোগ্য ও বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শ নেওয়া, বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকা এবং অন্যের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীনভাবে হারামের অভিযোগ না করা। জটিল আর্থিক লেনদেনে চুক্তি ও বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই জরুরি।
একই হাদিসের শেষাংশে রাসুলুল্লাহ (সা.) শরীরের একটি মাংসপিণ্ডের কথা বলেছেন, যা সুস্থ থাকলে পুরো শরীর সুস্থ থাকে, নষ্ট হলে পুরো শরীর নষ্ট হয়; সেটি হৃদয়। অন্তরে আল্লাহভীতি ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থাকলে তা মানুষের সিদ্ধান্ত ও কাজে প্রতিফলিত হয়।
ছবি: সহিহ বুখারির ইংরেজি অনুবাদের খণ্ডগুলো, Pete unseth / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন





মন্তব্য
(০)