সামাজিক বাধা, আর্থিক অসচ্ছলতা, অতিরিক্ত প্রত্যাশা বা উপযুক্ত জীবনসঙ্গী না পাওয়ায় অনেকের বিয়ে দেরি হচ্ছে, কেউ কেউ হতাশায়ও ভুগছেন। আলেমরা এমন সময়ে দোয়া, কোরআনের দোয়া পাঠ ও নফল নামাজে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, নির্দিষ্ট কোনো আমল করলেই দ্রুত বিয়ে হবে, এমন নিশ্চয়তা কোরআন-হাদিসে নেই।
ইসলাম বিয়েকে সহজ করতে উৎসাহ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে, কারণ বিয়ে দৃষ্টি সংযত রাখে ও লজ্জাস্থান হেফাজত করে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)। সুরা আর-রুমের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে প্রশান্তি, ভালোবাসা ও দয়ার কথা বলেছেন।
প্রথম আমল নিজের ভাষায় আন্তরিক দোয়া: নেককার ও উত্তম চরিত্রের জীবনসঙ্গী, বিয়ের প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়া ও হালাল উপার্জন সহজ হওয়ার জন্য প্রার্থনা। সুরা আল-বাকারার ১৮৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তিনি নিকটেই এবং আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেন। দোয়ার পাশাপাশি পরিবারকে যুক্ত করা, উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী খোঁজা এবং অযৌক্তিক সামাজিক বাধা দূর করার চেষ্টাও জরুরি।
দ্বিতীয়টি সুরা আল-ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতের দোয়া, ‘রব্বানা হাব লানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ’ইউনিন, ওয়াজ’আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা’। অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে চোখের প্রশান্তি দিন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানান। ফরজ নামাজের পর বা যেকোনো সময় এটি পড়া যায়, তবে দ্রুত বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যায় বা বিশেষ নিয়মে পড়তে হবে, এমন সহিহ প্রমাণ নেই।
তৃতীয়টি নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে প্রয়োজন তুলে ধরা। হজরত হুযাইফা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে কোনো কঠিন বিষয় এলে তিনি নামাজ আদায় করতেন (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৯)।
আলেমদের পরামর্শ, বিয়ে দেরি হলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং সামর্থ্য থাকলে অযথা দেরি না করে পরিবার ও সমাজের সহযোগিতায় বৈধ উপায়ে জীবনসঙ্গী খোঁজা। দোয়া ও ইবাদত আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার মাধ্যম, এগুলোকে দ্রুত বিয়ের নিশ্চিত সূত্র হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়।
ছবি: হাত তুলে দোয়া করছে এক শিশু, Ashikul Islam Anik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আর টিভি অনলাইন





মন্তব্য
(০)