অস্ট্রেলিয়ার সুপারশপ চেইন উলওয়ার্থসের (Woolworths) বার্ষিক সাধারণ সভায় ২৯ অক্টোবর সিডনিতে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো জানতে চেয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি করা গরুর মাংস অবৈধভাবে বন কাটা জমি থেকে আসছে কি না। একই সভায় কুইন্সল্যান্ডের এক গরু খামারি তার পাল্টা জবাব দেন। বিফ সেন্ট্রালের খবর অনুযায়ী, শেয়ারহোল্ডারদের প্রায় ২০টি প্রশ্নের অর্ধেকই এসেছে পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য বা পরিবেশ নিয়ে কথা বলা ব্যক্তিদের কাছ থেকে।
অস্ট্রেলিয়ান কনজারভেশন ফাউন্ডেশন (এসিএফ), গ্রিনপিস অস্ট্রেলিয়া প্যাসিফিক ও দ্য ওয়াইল্ডারনেস সোসাইটির প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, পর্ষদ মাংসের উৎস পুরোপুরি জানে না। চেয়ারম্যান স্কট পারকিন্স (Scott Perkins) বলেন, তাজা গরুর মাংসের সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর কোম্পানির যথেষ্ট নজর আছে। নিজস্ব আকাশপথের নজরদারিতে সরাসরি সরবরাহকারী কোনো খামারে বন উজাড় পাওয়া যায়নি, তবে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কেনা মাংসের ক্ষেত্রে আরও কাজ বাকি। বন উজাড়মুক্ত প্রতিশ্রুতির পরিধি কমানো হয়েছে, এসিএফের এমন দাবিও তিনি নাকচ করেন।
সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ডের খামারি ও গরু খামারিদের শীর্ষ সংগঠন ক্যাটল অস্ট্রেলিয়ার উপসভাপতি অ্যাডাম কফি (Adam Coffey) শেয়ারহোল্ডার হিসেবে সভায় বক্তব্য দেন। তিনি জানান, উলওয়ার্থসের বন উজাড় না করার নীতি বাস্তবায়নে তিনি কয়েক বছর কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেছেন, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়িত হয়। অস্ট্রেলিয়ার খামারিদের রাজ্য, অঞ্চল ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অসংখ্য গাছপালা ব্যবস্থাপনা আইন মেনে চলতে হয়। তাঁর ভাষায়, ক্যাটল অস্ট্রেলিয়া বন উজাড় একেবারেই সমর্থন করে না, তবে নিয়ম মেনে খামারের নিয়মিত কাজ করার অধিকারের পক্ষে।
কফি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব তুলে ধরে বলেন, ২০১০ থেকে ২০২০ সালে পুনর্বনায়নের হারে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বে দ্বিতীয়, বনভূমি বেড়েছে ৪৪ লাখ হেক্টর। তিনি অভিযোগ করেন, পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো খামারিদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ক্ষতিকর অভিযোগ তুলছে। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের জলাধার এলাকায় খামার চালানো কফি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সের তথ্যে রিফের প্রবাল আচ্ছাদন এখন ৩৫ বছরে সর্বোচ্চ।
এ মাসের শুরুতে কমনওয়েলথ ব্যাংকের (সিবিএ) সাধারণ সভায়ও একই ধরনের প্রচার হয়েছিল। বন উজাড়ের সঙ্গে যুক্ত ঋণ বন্ধের পথনকশা চেয়ে এসিএফসহ কয়েকটি সংগঠনের প্রস্তাব ৯৩ শতাংশের বেশি ভোটে বাতিল হয়। সিবিএর নিজস্ব ভূ-স্থানিক মূল্যায়নে ২০০ হেক্টরের বেশি বন হারানোর ঘটনায় ব্যাংকের ঋণ মোট প্রতিশ্রুত ঋণের প্রায় ০.২ শতাংশ। সংগঠনগুলো ডিসেম্বরে এএনজেড ব্যাংকের সভায়ও একই প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে।
গরু খামারিদের জন্য এর মানে, চাপ এখন খামারের বাইরে থেকে সরে যাচ্ছে সেই খুচরা বিক্রেতা আর ব্যাংকের পর্ষদকক্ষে, যাদের কাছে তাঁরা মাংস বেচেন ও ঋণ নেন।
ছবি: CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Beef Central





মন্তব্য
(০)