২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে অস্ট্রেলিয়া ৪,৪৭,১০১টি জীবন্ত গরু রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩.৫ শতাংশ কম। বিফ সেন্ট্রালের মাসিক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রতিবেদন বলছে, অস্ট্রেলিয়ায় গরুর উঁচু দাম আর ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ দামের সীমা ক্রেতাদের চাপে ফেলেছে। ইন্দোনেশিয়া একাই নিয়েছে ৩,৫২,১৯৭টি, কমেছে ১৪.২ শতাংশ; অর্থাৎ এই বাণিজ্য একটি বাজারের ওপর কতটা নির্ভরশীল, তা স্পষ্ট।
অক্টোবরের মাঝামাঝি ডারউইনে মোটাতাজাকরণের এঁড়ের দাম ছিল জীবন্ত ওজনে কেজিপ্রতি ৪.৫০ থেকে ৪.৬০ অস্ট্রেলীয় ডলার, পরিবহন খরচ যোগের আগেই যা ইন্দোনেশিয়া (৪.৮৬ ডলার) ও ভিয়েতনামের (৪.৯০ ডলার) জবাইয়ের গরুর দামের কাছাকাছি। সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আগস্টের ৭১,৭১১ থেকে নেমে ৪৬,৭৬৫টিতে দাঁড়ায়, তার ৩৪,০৮৫টি গেছে ইন্দোনেশিয়ায়। রমজান ও লেবারানের আগে সাধারণত নতুন গরু কেনা বাড়ে, এবার তা সীমিত থাকবে বলে প্রতিবেদনের ধারণা।
ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বাড়ছে। সস্তা আমিষের উৎস হিসেবে পিটি বেরদিকারি অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রথমবার মহিষের চালান পেয়েছে; ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ৭,৩৮৪টি মহিষ রপ্তানি করেছিল। দাম স্থিতিশীল রাখতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন গরু ও মহিষের মাংস আমদানি করে, বেরদিকারিকে পশুখাদ্যের সয়াবিন খৈল আমদানির দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। বালিতে প্রতিবেদক দেখেছেন, খুঁটিতে বাঁধা গরু ন্যাড়া মাটিতে দাঁড়িয়ে কাটা ডালপালা খাচ্ছে; প্রদেশে গরু ২০২১ সালের প্রায় ৫,৫৮,০০০ থেকে কমে ২০২৫ সালে প্রায় ৩,৯২,০০০-এ নেমেছে।
সেপ্টেম্বরের শেষে ভিয়েতনামে গরুর পাল ১.৬ শতাংশ আর মহিষের পাল ৬.৪ শতাংশ ছোট হয়েছে, অথচ নয় মাসে গরুর মাংসের উৎপাদন ১.৩ শতাংশ বেড়ে ৩,৯৬,৪০০ টন হয়েছে। দেশটির পরিসংখ্যান দপ্তর এর কারণ হিসেবে যান্ত্রিকীকরণ, চারণভূমি কমে যাওয়া, দীর্ঘ উৎপাদনচক্র ও শ্রমিকসংকটের কথা বলেছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ভিয়েতনামে গরু পাঠিয়েছে ১২,৭২১টি, গত বছর একই সময়ে পাঠিয়েছিল ৭৭,৮৭০টি।
চীনে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রধান উৎপাদনকারী প্রদেশগুলোতে জীবন্ত গরুর দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩০.৫৮ ইউয়ান, এক বছরে বেড়েছে ১২.৮ শতাংশ; জুনে দেশটির গরুর পাল ছিল ৯ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার, কমেছে ৪.৩ শতাংশ। মালয়েশিয়ার সাবাহ ডারউইন থেকে ৭৮০টি ব্রাহমান সংকর গরু নিয়েছে এবং প্রজননের গরু পাওয়া খামারিদের এখন পশুর মূল্যের অন্তত ১০ শতাংশ ফেরতযোগ্য জামানত রাখতে হবে। ফিলিপাইনে ২০ অক্টোবর পৌঁছেছে অস্ট্রেলিয়ার ১,৪১৯টি গর্ভবতী দুগ্ধগাভী।
উত্তর অস্ট্রেলিয়ার খামারিদের জন্য বার্তা হলো, দেশে ভালো দাম পাওয়ার মূল্য তাঁরা দিচ্ছেন কাছের রপ্তানি বাজারে বিক্রি কমিয়ে।
ছবি: kenhodge13 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Beef Central





মন্তব্য
(০)