ইসরায়েলের কৃষি প্রযুক্তি স্টার্টআপ ক্লাইমেটক্রপ (ClimateCrop) বলছে, জিন সম্পাদনার মাধ্যমে গাছের শ্বেতসার তৈরির একটি প্রাকৃতিক 'ব্রেক' নিষ্ক্রিয় করে তারা গাছের দৈনিক শক্তি সঞ্চয় বাড়াতে পারে। এতে বহু ফসলের বৃদ্ধি, চাপ সহনশীলতা এবং সম্ভবত ফলনও বাড়তে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি। লন্ডনে ওয়ার্ল্ড এগ্রি-টেক উদ্ভাবন সম্মেলনে এজিফান্ডনিউজের প্রতিবেদক এলেইন ওয়াটসনকে (Elaine Watson) এ পদ্ধতির কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইয়েহুদা বোরেনস্টাইন (Yehuda Borenstein)।
সালোকসংশ্লেষণে গাছ সূর্যের আলো, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে শর্করা তৈরি করে, আর তার একটি অংশ পাতায় শ্বেতসার হিসেবে জমিয়ে রাখে। রাতে কিংবা খরা বা অন্য চাপের সময় সেই শ্বেতসার ভেঙে গাছ বেড়ে ওঠার শক্তি পায়। ইসরায়েলের ভাইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের (Weizmann Institute of Science) গবেষকেরা এমন একদল প্রোটিন খুঁজে পান, যারা এই দৈনিক মজুত নিয়ন্ত্রণ করে। এর একটি আলো কমে এলে শ্বেতসার তৈরি ধীর করে দেয় এবং দিনের বেলাতেও তা কিছুটা আটকে রাখে।
২০২১ সালে বোরেনস্টাইন, এরেজ এলিয়াহু ও বিবেকানন্দ তিওয়ারির প্রতিষ্ঠিত ক্লাইমেটক্রপ ভাইজম্যান ইনস্টিটিউট থেকে আবিষ্কারটির লাইসেন্স নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জিনে পরিবর্তনের পেটেন্ট তাদের হাতে। গাছকে শ্বেতসার তৈরি থামানোর নির্দেশটি নিষ্ক্রিয় করলে গাছ প্রতিদিন ১০-১৫ শতাংশ বেশি শ্বেতসার জমায় বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি। বোরেনস্টাইনের ভাষায়, প্রতিদিন বাড়তি শক্তি পেয়ে গাছ একটু দ্রুত বাড়ে, শিকড় আগে মাটির পুষ্টিতে পৌঁছায়, আর চাপ সামলে আবার সেরে ওঠাও কিছুটা সহজ হয়।
আলু, টমেটো, ক্যানোলা ও সরগামে পরীক্ষা করে প্রতিটিতে একই রকম ফল মিলেছে, কলাতেও ভালো ফল পাওয়া গেছে বলে জানান বোরেনস্টাইন। তাঁর ধারণা, ফসলভেদে প্রভাব আলাদা হবে; যেসব সি-ফোর উদ্ভিদ আগে থেকেই কার্বন বেশি দক্ষতায় কাজে লাগায়, সেগুলোতে প্রভাব প্রচলিত সি-থ্রি উদ্ভিদের চেয়ে কম হতে পারে। এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
পরিবর্তনটি জিন সম্পাদনা বা অন্য জিনগত পদ্ধতিতে করা যায়। কিছু ফসলে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বড় বীজ সংগ্রহে একই পরিবর্তন প্রাকৃতিকভাবেই পাওয়া গেছে, তাই সেখানে প্রচলিত প্রজননেও কাজটি সম্ভব। প্রতিটি ফসলে সম্পাদনার কাজ ক্লাইমেটক্রপ সহযোগীদের দিয়ে করাতে চায়, আর প্রজননকারী, বীজ কোম্পানি ও চাষিদের কাছে প্রযুক্তিটি লাইসেন্স দিচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের জাতে এটি যুক্ত করে মাঠপরীক্ষা চালাতে পারে।
বোরেনস্টাইন স্বীকার করেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ ফলন বৃদ্ধির নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না, কারণ ফলন নির্ভর করে মৌসুম, অঞ্চল ও আবহাওয়ার ওপর; বহু মৌসুম ধরে বৈশিষ্ট্যটি পরীক্ষা করতে হবে। তবে জলবায়ুর চাপ যত বাড়ছে, চাষিরা এ ধরনের সুরক্ষা তত বেশি চাইবেন বলে তাঁর যুক্তি।
চাষির জন্য এখানে মূল বিষয় ফলনের বড় সংখ্যা নয়, সহনশীলতা: দিনে বেশি শক্তি জমানো ফসল খরা বা তাপের ধাক্কার পর দ্রুত সেরে উঠতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রাথমিক পরীক্ষার, সহযোগীদের সঙ্গে মাঠপরীক্ষা এখনো বাকি।
ছবি: Amos Meron / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)