আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) ও কৃষি তথ্য প্রতিষ্ঠান রিগ্রো অ্যাগ (Regrow Ag) ধান চাষের গ্রিনহাউস গ্যাস মাপা, প্রতিবেদন ও যাচাইয়ের উন্নত সরঞ্জাম তৈরি এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু ধান চাষের অর্থায়নের নতুন পথ খুঁজতে পাঁচ বছরের চুক্তি করেছে।
ইরি দেবে কয়েক দশকের মাঠে মাপা নিঃসরণের তথ্য, ধানের ফসল মডেল এবং সরকারগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক; রিগ্রো দেবে ডিএনডিসি নামের একটি প্রক্রিয়াভিত্তিক মডেল, যা পানিতে ডোবানো ধানখেতের দৈনিক মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড নিঃসরণ অনুকরণ করে, সঙ্গে ধানের বড় কার্বন চুক্তিতে কাজের অভিজ্ঞতা।
বিশ্বে ৪০ কোটি একরের বেশি জমিতে ধান চাষ হয়, যা কৃষি খাতের নিঃসরণের প্রায় ১০ শতাংশ; প্রায় ১৪ কোটি কৃষক, যাঁদের বেশির ভাগ ক্ষুদ্র চাষি, এর ওপর নির্ভরশীল। পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি), বায়োচার ও লক্ষ্যভিত্তিক মাটি সংশোধনী ধানখেতের নিঃসরণ কমাতে পারে; এডব্লিউডিতে পানি ও খরচও বাঁচে।
কিন্তু ধানের কার্বন ক্রেডিটের বিজ্ঞান আর তা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম এখনো এক সুরে চলে না। অনেক প্রকল্প স্বেচ্ছা বাজারের মানদণ্ড পূরণে মাঠপর্যায়ের বিস্তারিত মডেল ব্যবহার করে, অথচ দেশগুলোর জাতীয় নিঃসরণ হিসাব চলে সরল পদ্ধতিতে। প্যারিস চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এক দেশের ক্রেডিট আরেক দেশে বিক্রি হলে উৎস দেশকে নিজের হিসাব থেকে তা বাদ দিতে হয়, যা পরিষ্কারভাবে কাজ করে কেবল দুটি একই পদ্ধতিতে মাপা হলে। দুই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য জাতীয় হিসাব ও প্রকল্পকে একই তথ্য দেওয়া, যাতে পরীক্ষামূলক প্রকল্প থেকে সরকারের অনুমোদনযোগ্য বড় কর্মসূচি গড়ে ওঠে।
রিগ্রোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিজ্ঞান কর্মকর্তা বিল সালাস (Bill Salas) বলেন, মাটি শুকালে মিথেন কমে, কিন্তু নাইট্রাস অক্সাইড বাড়তে পারে; তাই শুধু একটি গ্যাস হিসাব করলে জলবায়ু সুফল সহজেই বাড়িয়ে দেখানো হয়। ইরির মহাপরিচালক ড. ইভন পিন্টো (Yvonne Pinto) বলেন, সরকারগুলো কম নিঃসরণের ধানের জন্য কৃষককে পুরস্কৃত করতে চায়, কিন্তু তাদের দরকার আস্থার সঙ্গে প্রতিবেদন করার মতো ফল।
আগামী কয়েক মাসে দুই প্রতিষ্ঠান গবেষণার অগ্রাধিকার ও পরীক্ষামূলক দেশ বাছাই করবে। সেচের পানি বাঁচাতে যাঁরা ইতিমধ্যে এডব্লিউডি করছেন, নির্ভরযোগ্য মাপজোখ থাকলে তাঁরা এড়ানো নিঃসরণের জন্যও অর্থ পেতে পারেন।
ছবি: U.S. Department of Agriculture / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: IRRI



মন্তব্য
(০)