ছোট খামারিদের মধ্যে শূকর পালন বেড়েছে, কিন্তু অনেকে পশুর পুষ্টির চাহিদার কথা ভাবেন না, লিখেছেন শেন ব্রডি (Shane Brody)। তিনি ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকায় লিখেছেন, শুধু ভুসি, অসম উচ্ছিষ্ট খাবার বা ফেলে দেওয়া খাবার খাওয়ালে ভালো বৃদ্ধি হয় না, আর দুর্বল খাদ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে সংক্রমণ বাড়ে। ব্রডি গ্রামীণ খামারিদের দক্ষতা শেখানোর একটি কর্মসূচিতে কাজ করেন। তার নির্দেশনা নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা নয়, বরং মূল চাহিদার রূপরেখা।
সাত দিন বয়স থেকে বাচ্চাদের অল্প করে মিষ্টি, দুধযুক্ত ক্রিপ ফিড দিতে হবে, যাতে দুধ ছাড়ানোর সময় ধাক্কা না লাগে। দুধ ছাড়ানো বাচ্চার দরকার খামারের সবচেয়ে ভালো খাদ্য: বেশি প্রোটিন, সহজপাচ্য, অল্প করে বারবার, সঙ্গে পরিষ্কার পানি; তাদের গরম ও শুকনো জায়গায় রাখতে হবে। ভুল হলে ডায়রিয়া, রোগা হওয়া ও মৃত্যু দেখা দেয়। বাড়ন্ত শূকর যত খেতে চায় খেতে দিতে হবে, কারণ এ পর্যায়েই বৃদ্ধি থেকে লাভ আসে।
বিক্রির আগের শেষ পর্যায়ে কম প্রোটিন ও বেশি ভুট্টাসহ শক্তিসমৃদ্ধ সস্তা খাদ্য চলে। খাদ্য খরচের প্রায় ৬০ শতাংশ এই পর্যায়ে, তাই অপচয় করা যাবে না; বেশি চর্বিওয়ালা পশুর জন্য কসাইখানায় দাম কাটা হয়। প্রজননের জন্য রাখা কম বয়সী মাদি যেন মোটা না হয়, কারণ তাতে প্রজনন খারাপ হয় ও পায়ের সমস্যা দেখা দেয়; প্রজননের আগে দুই সপ্তাহ বাড়তি খাদ্য দিলে বাচ্চার সংখ্যা বাড়তে পারে।
গর্ভবতী মাদিকে বেশি আঁশযুক্ত, পেট ভরানো কিন্তু কম শক্তির খাদ্য দিতে হয়: ভালো অবস্থায় থাকলে প্রথম তিন মাস দিনে প্রায় ২ কেজি, শেষ মাসে বাচ্চা দ্রুত বাড়ে বলে ৩ কেজি। মোটা মাদির প্রসবে সমস্যা হয় এবং বাচ্চা চাপা পড়ে, আর রোগা মাদির বাচ্চা কম হয়। ১২টি বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো মাদির দিনে ৮ কেজি পর্যন্ত খাদ্য লাগতে পারে; না পেলে সে রোগা হয়ে যায়, আবার গরম হয় না, পরে বাচ্চাও কম দেয়। পুরুষ পশুও যেন মোটা বা রোগা না হয়।
মূল নিয়ম হলো, পশু যত বাড়ছে বা দুধ দিচ্ছে, খাদ্য তত ভালো হতে হবে; যাদের শুধু শরীর ঠিক রাখা দরকার, তাদের জন্য সস্তা ও সীমিত খাদ্যই যথেষ্ট। প্রতিদিন পানির সরবরাহ পরীক্ষা করতে হবে, কারণ পানি খাওয়া কমে গেলে পুরো খামার ঝুঁকিতে পড়ে। ব্রডি মনে করিয়ে দেন, খাদ্যই সব নয়: টিকা, বাচ্চাদের আয়রন ইনজেকশন, কৃমিনাশক ও জৈব নিরাপত্তাও জরুরি।
ছবি: Adesolive / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)