বাণিজ্যিক বিমার আন্ডাররাইটারের চাকরি ছেড়ে খামারে আসার সময় জোন ম্যাক্সওয়েল (Joan Maxwell) তার হিসাবের স্প্রেডশিট সঙ্গে এনেছিলেন, জানিয়েছে এগনেভিগেটর। স্বামী জন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তিনি চালান সিনামন রিজ ফার্মস, যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ড্যাভেনপোর্ট শহর থেকে প্রায় ১৪ মাইল উত্তর-পশ্চিমে একটি বহুমুখী দুগ্ধ খামার। খামারটি যুক্তরাষ্ট্রের ডেইরি সাসটেইনেবিলিটি পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা পেয়েছে।
খামারের সাফল্যের একটি অংশ হিসাবের প্রতি কড়া নজর। যন্ত্রপাতির খরচ বিশ্লেষণ করে তারা ঠিক করেন, পুরোনো যন্ত্র সারানো সস্তা না নতুন কেনা। জোন বলেন, কত টাকা আয় করলেন সেটা বড় কথা নয়, কত টাকা ধরে রাখতে পারলেন সেটাই আসল; এখন তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।
বাকিটা প্রযুক্তির কাজ। খামারে গাভি দোহন হয় লেলি (Lely) কোম্পানির স্বয়ংক্রিয় দোহন যন্ত্রে। বাছুর ভবিষ্যতে কতটা দুধ দেবে, তা জানতে জিনগত পরীক্ষাও করা হয়। ম্যাক্সওয়েল দম্পতি ভার্চুয়াল বেড়া প্রযুক্তি পরীক্ষা করছেন, যাতে খুঁটি-তারের বেড়া ছাড়াই বড় জমিতে পালা করে গাভি চরানো যায়, এমনকি নালার ধারের ঘাসের পট্টিতেও, যেখানে বেড়া দেওয়া খুব ব্যয়বহুল।
মাঠে তারা চাষ ছাড়া বপন ও আচ্ছাদন ফসল ব্যবহার করেন, যা মাটির স্বাস্থ্য ভালো করে এবং পানিতে নাইট্রেট কমায় বলে জানান জন ম্যাক্সওয়েল। গবাদিপশুর গোবর যায় ভুট্টা, সয়াবিন ও খড়ের জমিতে। তবে জোন সতর্ক করেন, এসব পদ্ধতিতে খরচ আছে, চাষ ছাড়া বপনের যন্ত্র কেনা থেকে আচ্ছাদন ফসল বোনার মজুরি পর্যন্ত, তাই কৃষককে লাভ দেখতে হবে।
তার বড় দুশ্চিন্তা জমির মালিকানা। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের হিসাবে দেশটির ৩৪ কোটি ৭৮ লাখ একর কৃষিজমি ভাড়ায় চাষ হয়, আর যেসব মালিক নিজে চাষ করেন না, তাদের প্রায় ৫২ শতাংশ কখনো চাষই করেননি। জোন বলেন, ইজারায় সাধারণত লেখা থাকে যতটা পুষ্টি তুলবেন ততটা ফেরত দিতে হবে, কিন্তু জমি ভালো করার কোনো পুরস্কার নেই; তাই আচ্ছাদন ফসল বাধ্যতামূলক হলে খরচ দেবেন কৃষক, লাভ পাবেন মালিক।
ছবি: Anoek2012 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)