ব্রাজিলের একটি সিলভোপাস্চার প্রকল্প থেকে দশ বছরে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন কার্বন অপসারণ ক্রেডিট কিনতে রাজি হয়েছে গুগল (Google) ও ম্যাককিনসি (McKinsey)। রয়টার্সের বরাতে দ্য ক্যাটল সাইট জানিয়েছে, সিম্বায়োসিস কোয়ালিশনের জন্য এ ধরনের প্রকল্প এটিই প্রথম। সিলভোপাস্চার মানে গবাদিপশুর চারণভূমিতেই গাছ লাগানো, যাতে পশু চরানো চলতে থাকে, আবার বেশি কার্বন জমা হয় এবং বন উজাড়ের চাপ কমে।
এ কেনাকাটা জলবায়ু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্কিং ট্রিজকে (Working Trees) ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্ব আমাজন ও সেরাদো অঞ্চলের ক্ষয়ে যাওয়া চারণভূমিকে মিশ্র প্রজাতির গাছের ব্যবস্থায় রূপান্তরে সহায়তা করবে। চুক্তির অর্থে ৫০ হাজার হেক্টরের বড় প্রকল্পের মধ্যে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার হবে। কার্বনের অর্থে বড় পরিসরে সিলভোপাস্চার চালুর প্রথম দিকের চেষ্টাগুলোর এটি একটি।
ওয়ার্কিং ট্রিজ চালু চারণভূমিতে সারি করে বাণিজ্যিক কাঠের গাছ ও দেশি গাছ লাগায়, মাঝে পশু চরার জায়গা থাকে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা বাড়ে, আর ভবিষ্যতের কাঠ বিক্রির আয় কার্বন ক্রেডিটের আয় কমে গেলেও জমির মালিককে গাছ রেখে দিতে উৎসাহ দেয়। প্রধান নির্বাহী লিফ গঞ্জালেস-ক্র্যামার বলেন, মানুষ গরুর মাংস খেতেই থাকবে আর জলবায়ু পদক্ষেপও নিতে হবে, এই দুটো একসঙ্গে অর্জনের একমাত্র পথ সিলভোপাস্চার। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি কেনার প্রতিশ্রুতি বিনিয়োগ আনার জন্য জরুরি।
সিম্বায়োসিস কোয়ালিশনের নির্বাহী পরিচালক জুলিয়া স্ট্রং বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে কার্বন ধরে রাখার পথগুলোর মধ্যে সিলভোপাস্চারের বড় পরিসরে ছড়ানোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, আর এ অঞ্চলে লাখ লাখ হেক্টরে তা করা সম্ভব। গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা ও সেলসফোর্স এই কোয়ালিশনের সদস্য; ২০৩০ সালের মধ্যে তারা ২ কোটির বেশি টন কার্বন অফসেট কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ব্রাজিলের নতুন কার্বন বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল বিদ্যুৎ খরচ করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোর নিঃসরণ পুষিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজছে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এমন অফসেট দূষণকারীদের নিজেদের নিঃসরণ না কমিয়েই পার পেতে দেয়।
ছবি: CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: The Cattle Site





মন্তব্য
(০)