দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি স্টেট প্রদেশের ক্ষুদ্র দুগ্ধ খামারিরা দুধ ছেড়ে অন্য কৃষিকাজে চলে যাচ্ছেন, আর এর মূল কারণ গরু নয়, বাজার, এমনটাই যুক্তি দেশটির কৃষি গবেষণা পরিষদের (এআরসি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা কারিগর অ্যাডাম সোয়ারাহলা (Adam Swarahla) ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াল্টার শিবার (Walter Shiba)। ফুড ফর মজানসিতে প্রকাশিত তাঁদের মতামত লেখাটি লেখকদের নিজস্ব মত।
তাঁরা বলছেন, দুগ্ধ খামার এমন অল্প কয়েকটি কৃষিকাজের একটি, যা প্রতিদিন আয় দেয়; আর ক্রেতার দেওয়া দামের তুলনায় সবচেয়ে বড় একক খরচ পশুখাদ্য। কিন্তু দুধ দ্রুত নষ্ট হয়, তাই প্রতিদিনই নির্ভরযোগ্য ক্রেতা লাগে। বাজার না মিললে ক্ষতি হয় সঙ্গে সঙ্গে: দুধ নষ্ট হয়, আয় হারায়, খামারি হতাশ হন।
বাধাগুলো পরিচিত। খামার দূরে, দুধ সংগ্রহকেন্দ্র ও প্রক্রিয়াকারী কারখানা থেকে অনেক পথ, রাস্তাও প্রায়ই খারাপ, তাই পরিবহনেই লাভ খেয়ে যায়। অনেকের দোহনঘর, দুধ ঠান্ডা রাখা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও পানি নেই; ঠান্ডা না রাখলে দুধের মান দ্রুত পড়ে যায় এবং কারখানার মানদণ্ড পূরণ হয় না। অল্প দুধ বিক্রি করায় একক খামারির দর-কষাকষির ক্ষমতা কম; প্রায়ই যে দাম দেওয়া হয় তা-ই মেনে নিতে হয়, নয়তো কম দামে স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছে বেচতে হয়। বাজারের তথ্য, দক্ষতা, সম্প্রসারণ সেবা ও ঋণের অভাবও আছে।
সমাধানের শুরু হিসেবে তাঁরা বলছেন সমবায় ও উৎপাদক সংগঠনের কথা, যা দুধ একসঙ্গে জড়ো করে পরিবহন খরচ কমাতে, ভালো চুক্তির জন্য দর-কষাকষি করতে এবং পশু চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও বাজারের তথ্য আনতে পারে। দুধ পাস্তুরিত করা বা দই ও অন্যান্য দুগ্ধপণ্য বানানোর মতো মূল্য সংযোজনে পণ্য বেশি দিন টেকে, আয়ও বাড়ে; আর যৌথ উদ্যোগে একক খামারির যা নেই, সেই সম্পদ, দক্ষতা ও বাজার মিলতে পারে।
লেখকেরা ফ্রি স্টেটের ক্ষুদ্র খামারিদের লাভজনক বাজারে পৌঁছাতে কী আটকাচ্ছে, তা নিয়ে একটি গবেষণার আহ্বান জানান, যাতে সরকার, প্রক্রিয়াকারী ও কৃষক সংগঠন দুধ সংগ্রহকেন্দ্র, অবকাঠামো, বাজার তথ্যব্যবস্থা ও সমবায় গঠনে লক্ষ্য ঠিক করে কাজ করতে পারে। তাঁদের ভাষায়, খামারিরা দুধ তো উৎপাদন করছেনই; এখন চ্যালেঞ্জ হলো বাজারকে তাঁদের পক্ষে কাজ করানো।
ছবি: Monxdavies / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Food for Mzansi




মন্তব্য
(০)