গবেষণাগারে উদ্ভিদকোষ থেকে তুলা উৎপাদনের জন্য পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের জৈবপ্রযুক্তি স্টার্টআপ গ্যালি (Galy) এবার কোকো উৎপাদনে নেমেছে। পেশাদার রান্নাঘরের জন্য তাদের চকলেট ব্র্যান্ড ভুন্ডারহাউস (WunderHaus) ডিসেম্বরে বস্টনের একটি রেস্তোরাঁয় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে আসছে; আরও কিছু রেস্তোরাঁ ও হোটেল পরীক্ষা করছে, আর ২০২৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আনার লক্ষ্য।
প্রযুক্তিটি উদ্ভিদকোষ চাষ: গাছ জন্মানোর বদলে কোকো বীজের ছোট একটি অংশ নিয়ে তার কোষ বিয়ার কারখানার মতো ট্যাংকে বাড়ানো হয়। সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী লুসিয়ানো বুয়েনো (Luciano Bueno) জানান, সংগ্রহ করা উপাদান ট্যাংকের বাইরে গাঁজন ও ভাজার পর গুঁড়া করে কোকো পাউডার হয়। ম্যাসাচুসেটসের এসেক্সে পুরোনো অবকাঠামো কাজে লাগানো এ উৎপাদন আবহাওয়া, জমি বা ফসল কাটার চক্রের ওপর নির্ভর করে না।
চাহিদা এসেছে জলবায়ু সংকটে বিপাকে পড়া চকলেট প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে। ২০২৪ সালে কোকোর মজুত এক দশকের সর্বনিম্নে নামে, দাম রেকর্ড ছোঁয়, কারণ প্রধান উৎপাদক অঞ্চলে চরম আবহাওয়ায় ফলন নষ্ট হয়। বুয়েনো বলেন, ২০২৫ সালে কোকোয় মনোযোগ দেওয়ার পর এক বছরের কম সময়ে গবেষণাগার থেকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে পৌঁছেছেন; তুলার প্রক্রিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ এখানেও কাজে লেগেছে।
আপাতত ভুন্ডারহাউস মিশ্র পণ্য: গ্যালির কোষচাষের কোকোর সঙ্গে প্রচলিত কোকো মেশানো হয়, দাম প্রিমিয়াম চকলেটের মতো। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার কোকোচাষিদের সঙ্গে অংশীদারত্বের কথা ভাবছে, চাষের বদলে নয়, পাশাপাশি থাকতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রে নিজেরা নিরাপদ ঘোষণা করে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনকে জানিয়েছে, আবুধাবির খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষে আবেদন করেছে।
কোকোর জীবনচক্র মূল্যায়ন এখনো হয়নি; প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ হিসাবে মাঠের উৎপাদনের তুলনায় সম্পদ ব্যবহার প্রায় ৮০ শতাংশ বা তার বেশি কম, যা যাচাই বাকি। ফুড ব্রুয়ার, কোকোমোডো, ক্যালিফোর্নিয়া কালচার্ড ও সেলেস্তে বায়োর মতো আরও কয়েকটি স্টার্টআপ এবং চকলেট প্রতিষ্ঠান বেরি ক্যালেবোও এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
প্রতিবেদনটি গ্রিন কুইনের জন্য লিখেছেন অনয় মৃদুল। ছবিটি গ্যালির।
সূত্র: Green Queen




মন্তব্য
(০)