যুক্তরাষ্ট্রের খামারে কৃষি ড্রোন দ্রুত ছড়াচ্ছে। ড্রোনে কীটনাশক বা উপকরণ প্রয়োগ করা জমি ২০২৩ সালে ছিল প্রায় ৩৭ লাখ একর, ২০২৪ সালে ১ কোটি ৩ লাখ, আর ২০২৫ সালে ১ কোটি ৬৪ লাখ একর; শুধু শেষ বছরেই বেড়েছে ৫৯ শতাংশ। আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের অর্থনীতিবিদ বার্নট নেলসনের (Bernt Nelson) এই বিশ্লেষণ পুনঃপ্রকাশ করেছে প্রিসিশন ফার্মিং ডিলার।
প্রযুক্তিটি যতটা নতুন মনে হয়, ততটা নয়। প্রথম বাণিজ্যিক কৃষি ড্রোন ছিল ইয়ামাহার আর-৫০ চালকবিহীন হেলিকপ্টার, ১৯৮৭ সালে জাপানের ধানচাষিদের শ্রমিক সংকটে কীটনাশক দিতে বাজারে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১০ সালের দিকে গবেষকেরা ড্রোনে কীটনাশক প্রয়োগের অনুমতি পেতে শুরু করার আগে ব্যবহার ধীর ছিল; এরপর সফটওয়্যার ও যন্ত্রের উন্নতিতে ড্রোন পরীক্ষামূলক থেকে বাণিজ্যিক হয়েছে।
বহরও বেড়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যে ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালে ৮ লাখ ৪২ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক ড্রোন নিবন্ধিত হয়েছে; ২০২৬ সালে সক্রিয় বাণিজ্যিক ড্রোন প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার, সনদধারী পাইলট ৪ লাখ ৮১ হাজার। ২০২৫ সালে নিবন্ধিত কৃষি স্প্রে ড্রোন ছিল ৫,৫০০টি, যুক্ত ২,৫৮৮টি সনদপ্রাপ্ত কৃষি বিমান পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।
ড্রোন ট্রাক্টর বা বিমানের জায়গা নিচ্ছে না, বরং তাদের ফাঁক পূরণ করছে। বিশ্লেষণ বলছে, ভেজা মাটি, ঢালু বা এবড়োখেবড়ো জমি আর অসম আকারের খেতে, যেখানে ভারী যন্ত্র মাটি চেপে দেয় বা ফসল নষ্ট করে, আর যেখানে সময়মতো স্প্রে জরুরি কিন্তু ব্যস্ত মৌসুমে বিমান পাওয়া কঠিন, সেখানেই ড্রোন সবচেয়ে লাভজনক।
ড্রোন নতুন আয়ের পথও খুলছে। ভাড়ায় স্প্রে, আচ্ছাদন ফসলের বীজ ছিটানো ও ফসল পর্যবেক্ষণে কৃষক ও উদ্যোক্তারা আয় করতে পারেন, তবে এর জন্য কারিগরি দক্ষতা, লাইসেন্স ও ব্যবসা পরিচালনার জ্ঞান লাগে, লিখেছেন নেলসন।
ছবি: US Forest Service (ক্যালিফোর্নিয়ায় ড্রোনে কীটনাশক প্রয়োগ প্রশিক্ষণ) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Precision Farming Dealer





মন্তব্য
(০)