ফিলিপাইনের লস বানিওসে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) আন্তর্জাতিক ধান জিন ব্যাংক নরওয়ের স্বালবার্ড গ্লোবাল সিড ভল্টে অষ্টমবারের মতো বীজ পাঠিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধানের জিনসম্পদ সংগ্রহের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কপি হিসেবে গেছে ১,৮৯০টি নমুনা (অ্যাকসেশন)।
এর মধ্যে ৪১০টি প্রথমবার স্বালবার্ডে যাচ্ছে: মাদাগাস্কারের ২৪৮টি চাষের ধান, কোস্টারিকার ৬৯টি বুনো ধান ও নেপালের ২৭টি চাষের ধান। বাকিগুলো জিন ব্যাংকে রাখা বিশ্বের নানা দেশের ধানের জাত ও বুনো আত্মীয়। ১৩ অক্টোবর ঘোষিত এ চালানে জিন ব্যাংকের পূর্ণ সংরক্ষিত নমুনার ৯৯.৫৯ শতাংশের নিরাপত্তা কপি হলো; আগের চালান গিয়েছিল ২০২৪ সালে, প্রথমটি ২০০৮ সালে।
কিছু নমুনায় সময় লেগেছে অনেক বেশি। বেশির ভাগ নমুনা নিবন্ধন থেকে নিরাপত্তা কপি হতে দুই-তিন বছর লাগে, কিন্তু এ চালানের ১০৯টি নমুনা পুনরুৎপাদন কঠিন, বীজও হয় অল্প; এগুলোর অনেকগুলোর জন্য ১৪ বছরের বেশি কাজ করতে হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যন্ত্র বিকল, মানুষের ভুল বা অন্য কোনো ক্ষতি থেকে বিশ্বের ফসল সংগ্রহ রক্ষার শেষ ভরসা স্বালবার্ড ভল্ট। জিন ব্যাংকের প্রধান ড. ভেনুপ্রসাদ রামাইয়া বলেন, এটি শুধু ব্যাকআপ নয়, অতীত ও বর্তমানের ফসলবৈচিত্র্য ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার জন্য টিকিয়ে রাখার উপায়।
জলবায়ু পরিবর্তন ও নতুন রোগবালাইয়ের চাপে জিন ব্যাংকের এই বৈচিত্র্যই প্রজননবিদদের কাঁচামাল, যা দিয়ে বেশি ফলনশীল, সহনশীল ও পুষ্টিকর ধানের জাত তৈরি হয়।
ছবি: Bjoertvedt (স্বালবার্ড গ্লোবাল সিড ভল্ট) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: IRRI





মন্তব্য
(০)