নবজাতক ভেড়ার বাচ্চা ও ছাগলছানার মৃত্যুর সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি ডায়রিয়া, খামারিরা যাকে স্কাওয়ার্স বলেন। মৌসুমে একটি ছানার অসুখ দিয়ে শুরু হয়ে তা প্রায় পুরো খোঁয়াড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি সংবাদমাধ্যম ফুড ফর মজানসি (Food for Mzansi)-তে প্রকাশিত এক ব্যবহারিক নির্দেশনায় সেখানকার প্রাণিস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও খামারিরা এ নিয়ে সতর্ক করেছেন।
ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কৃষি বিভাগের প্রাণিস্বাস্থ্য টেকনিশিয়ান সিহলে মন্তুনজে (Sihle Mntunje) বলেন, অপরিচ্ছন্নতা, নোংরা বিছানা, দূষিত সরঞ্জাম, সংক্রামক জীবাণু ও পুষ্টির ঘাটতি, সবই এ রোগে ভূমিকা রাখে। তাঁর পরামর্শ: খোঁয়াড়, খাবারের পাত্র ও পানির বালতি পরিষ্কার রাখা, গর্ভবতী ভেড়ি ও ছাগীকে প্রসবপূর্ব টিকা দেওয়া এবং প্রতিটি নবজাতককে জন্মের প্রথম ১২ ঘণ্টার মধ্যে শাল দুধ খাওয়ানো। প্রসবের চার থেকে ছয় সপ্তাহ আগে পশুচিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে টিকা দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, "নবজাতক ঠিকমতো দুধ টানতে না পারলে যত দ্রুত সম্ভব হিমায়িত শাল দুধ বা দুধের বিকল্প খাওয়ান।"
কোয়াজুলু-নাটালের এমপাঙ্গেনিতে কোয়ান্ডা অ্যাগ্রিবিজনেসের প্রতিষ্ঠাতা কোয়ান্ডা বিয়েলা (Kwanda Biyela) চার বছর ধরে ছাগল পালন করছেন। তিনি বলেন, ওষুধ ঠিক করার আগে তিনি দেখেন অসুস্থ ছানাটি কী খেয়েছে বা কোন পানির কাছে গেছে, আর ডায়রিয়ার ধরন কেমন। সমস্যা না কমলে বা অচেনা কিছু দেখলে তিনি পশুচিকিৎসক ডাকেন। নবজাতক ছানার জন্য তিনি উষ্ণতার জন্য বাতিসহ উপযুক্ত ঘর, পরিচ্ছন্নতা আর পানির উৎসের দিকে কড়া নজর রাখার পরামর্শ দেন। নিজে ছাগী দুইয়ে শাল দুধ হিমায়িত করে রাখেন পরের মৌসুমের জন্য।
লিম্পোপোর টুটিমোমো অ্যাগ্রিকালচারাল এন্টারপ্রাইজের উৎপাদন বিজ্ঞানী মাসিসোলে মাসওয়ানা (Masixole Maswana) বলেন, রোগ হওয়ার পরে নয়, আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। নোংরা খোঁয়াড়, ময়লা পানির পাত্র আর মলমূত্রে ভেজা জায়গায় পশুর ঘুম সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি গর্ভবতী পশুকে আলাদা রেখে খাবার নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন, যাতে শাল দুধ ভালো হয়। একাধিক বাচ্চা হলে সবল বাচ্চাটি আগে দুধ টেনে নিতে পারে, তাই দুর্বলটিও যেন দুধ পায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। পুরোনো পানিতে নতুন পানি ঢেলে না দিয়ে পাত্র ও সরঞ্জাম নিয়মিত ধুয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ইস্টার্ন কেপের কফিমভাবায় শিৎশি এসসি ফার্মার্স স্টোরের মালিক, প্রাণিবিজ্ঞানী ওলওয়েথু লাহো (Olwethu Laho) কারণ হিসেবে কক্সিডিয়া, ই. কোলাই ও কৃমির কথা বলেন। কক্সিডিওসিস অন্ত্রের ক্ষতি করে, তাতে রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া হতে পারে, পশু কুঁজো হয়ে লোম ফুলিয়ে থাকে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বা দূষিত পানিতে ই. কোলাই ছড়ায়। কৃমি হলে পেট ফোলা, পাতলা মল, কখনো মলে কৃমি দেখা যায়। ক্ষুধার্ত ছানা হাতের কাছে যা পায় মুখে দেয়, আর সেভাবেই জীবাণু ও পরজীবী শরীরে ঢোকে, বলেন লাহো।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, মলের ধরন দেখে পশু অসুস্থ বোঝা যায়, কিন্তু কারণ নিশ্চিত হওয়া যায় না। রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য পশুচিকিৎসক বা প্রাণিস্বাস্থ্য টেকনিশিয়ানের পরামর্শ নিতে হবে। মন্তুনজের মতে, ডায়রিয়া মানে ওজন কম বাড়া, মৃত্যু আর চিকিৎসার খরচ, তাই রোগ হওয়ার পরে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ সবসময় ভালো।
প্রতিবেদনটি ফুড ফর মজানসির জন্য লিখেছেন ভাটেকা হালিলে (Vateka Halile)।
ছবি: Ian Cunliffe / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ফুড ফর মজানসি





মন্তব্য
(০)