প্রসবের সময় গাভীকে কোথায় কীভাবে রাখা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে গাভীর কল্যাণ, সহজ প্রসব ও নবজাতক বাছুরের স্বাস্থ্য। পেন স্টেট এক্সটেনশনের সম্প্রসারণ শিক্ষক এমিলি ফ্রেড (Emily Fread) বলেন, পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত জায়গা ও কম চাপকে অগ্রাধিকার দিলে আলাদা কক্ষ বা দলগত প্রসবকক্ষ দুটোই কার্যকর। তাঁর পরামর্শ প্রকাশ করেছে Farms.com।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ২০১৪ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় ৭০% দুগ্ধখামার প্রসবের আগে গাভীকে আলাদা প্রসব এলাকায় সরায়; এর এক-তৃতীয়াংশ আলাদা কক্ষ, দুই-তৃতীয়াংশ দলগত ঘর ব্যবহার করে। বড় খামারে দলগত কক্ষে শ্রম বাঁচে, কিন্তু ভিড় আর খাবার নিয়ে প্রতিযোগিতায় চাপ বাড়ে, বিশেষ করে বকনা যখন বয়স্ক গাভীর সঙ্গে থাকে। তাই প্রসবের আগের ও পরের তিন সপ্তাহ বকনাদের আলাদা রাখলে উপকার হয়।
প্রসবের প্রায় চার ঘণ্টা আগে গাভী সাধারণত নিরিবিলি জায়গা খোঁজে, তাই প্রসববেদনা শুরুর আগেই প্রসবকক্ষে সরালে বিরক্তি কমে এবং কঠিন প্রসবের ঝুঁকিও কমতে পারে। দলের মধ্যে নিরিবিলি জায়গা পায় না এমন গাভীর জন্য আলাদা কক্ষ ভালো, এতে নবজাতক বাছুর রোগজীবাণু ও অন্য বাছুরের চোষা থেকেও বাঁচে।
প্রতি গাভীর জন্য প্রায় ০.৭৬ মিটার খাবারের পাত্রের জায়গা রাখতে হবে, আর পাত্রের ধারণক্ষমতার ৮০ শতাংশের বেশি গাভী রাখা যাবে না; বিশ্রামের জন্য প্রতি গাভীর প্রায় ১৩ বর্গমিটার জায়গা দরকার। বিছানা থাকবে পরিষ্কার ও শুকনো, টাটকা খাবার ও পরিষ্কার পানি সব সময়, প্রসবের পর ইলেকট্রোলাইট দেওয়া যেতে পারে। প্রসবের ভিড়ের সময় সামলাতে খামারের গড় প্রসব হারের অন্তত ১২০% গাভী রাখার মতো ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রসবের পর দুই দিন পর্যন্ত গাভীকে কক্ষে রাখলে দুধ দেওয়া শুরুর সময় সে খেয়ে-বিশ্রাম নিয়ে সামলে নিতে পারে।
ফ্রেডের মতে, কোন ব্যবস্থা সবচেয়ে ভালো তা খামারের আকার, শ্রমিক ও পশুর চাহিদার ওপর নির্ভর করে; তবে সঠিক সংখ্যায় পশু রাখা, চাপ কমানো, পরিচ্ছন্নতা ও পুষ্টি নিশ্চিত করলে গাভী ও বাছুর দুজনেই সুস্থ থাকে।
ছবি: Scott Bauer, USDA ARS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)