সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা৩৩°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৪৪%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

ধানখেত বদলে আপেলবাগান, বাইরের চালের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে কাশ্মীরে

কাশ্মীর উপত্যকার কৃষকেরা কয়েক গুণ বেশি আয়ের আশায় ধানখেতকে ঘন রোপণের আপেলবাগানে বদলে দিচ্ছেন; এতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার চালের ওপর অঞ্চলটির নির্ভরতা বেড়েছে, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ ও বন্যার পানি ধরে রাখার ক্ষমতাও কমতে পারে।

ধানখেত বদলে আপেলবাগান, বাইরের চালের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে কাশ্মীরে
ফসল

দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার কাইমোহ গ্রামের কৃষক নাজির আহমদ আপেলের চারাগাছের সারি দেখিয়ে বলেন, বিশ বছর আগে এর সবই ছিল ধানখেত, জানিয়েছে মোঙ্গাবে ইন্ডিয়া। ধানের জন্য তৈরি সেচনালা এখনো খেতের ভেতর দিয়ে বয়ে যায়, কিন্তু খরচ বাড়া আর ধানে লাভ কম হওয়ায় কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে কৃষকেরা খাদ্যফসলের জায়গায় বাগান করছেন, বিশেষ করে ঘন রোপণের আপেলবাগান।

একক কৃষকের হিসাব সহজ। কুলগামের নিসার আহমেদ নয় কানাল (০.৪৬ হেক্টর) জমিতে ধান চাষ করে বছরে ৩০ থেকে ৫০ হাজার রুপি পেতেন; ঘন রোপণের আপেলবাগান করার পর তাঁর পরিবার মৌসুমে আয় করে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি। জম্মু ও কাশ্মীরে ধানের জমি ২০১৫-১৬ সালের ৩ লাখ ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর থেকে ২০২৪-২৫ সালে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৪০ হেক্টরে নেমেছে, প্রায় ১৫ শতাংশ কম; আর আপেলের জমি ২০০৪-০৫ সালের ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩০ হেক্টর থেকে বেড়ে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩ হেক্টর। কুলগামে এখন আপেল ১৮ হাজার ২৫৫ হেক্টরে, ধান মাত্র ৬ হাজার ৯৫১ হেক্টরে।

২০২৪-২৫ সালে অঞ্চলটিতে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টন চাল উৎপাদন হলেও উদ্বৃত্ত রাজ্য, মূলত পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে আনতে হয়েছে ৪ লাখ ৮৬ হাজার টন, যা আগের বছর ছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার এবং ২০২২-২৩ সালে ৩ লাখ ৭৪ হাজার টন। শের-এ-কাশ্মীর কৃষিবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (স্কাস্ট-কে) কৃষিতত্ত্বের অধ্যাপক আশাক হোসেনের হিসাবে অঞ্চলটি নিজের চালের চাহিদার মাত্র ৫০-৫৫ শতাংশ উৎপাদন করে। কাশ্মীরের কৃষি পরিচালক সারতাজ আহমদ শাহ জানান, কত ধানের জমি বাগানে বদলেছে তার হিসাব তাঁদের বিভাগ রাখে না, তবে বাইরের চালের ওপর নির্ভরতা যে বেড়েছে তা তিনি স্বীকার করেন। ধানের জমিকে বাগানে রূপান্তর থেকে রক্ষার কোনো আলাদা নীতি নেই।

বিজ্ঞানীরা বড় প্রভাবের কথাও বলছেন। স্কাস্ট-কের গবেষক সামিনা লোন বলেন, বাগানে মাটির গঠন ও আর্দ্রতা বদলে যায়, আর ফসলের বৈচিত্র্য কমলে কৃষক বাজারের ওঠানামা, রোগবালাই ও আবহাওয়ার ঝুঁকিতে বেশি পড়েন; সম্প্রতি শোপিয়ান ও কুলগামে শিলাবৃষ্টিতে বাগানের ক্ষতি হয়েছে, কোথাও কোথাও সেই মৌসুমে তৃতীয়বার। কেন্দ্রীয় ভূগর্ভস্থ পানি বোর্ডের জলভূতত্ত্ববিদ পীর রইস আহমদ জানান, পানিতে ডোবানো ধানখেত অগভীর জলস্তরে পানি ফেরায় এবং বৃষ্টির পানি ধরে রেখে বন্যার চাপ কমায়; ধানখেত হারালে ঝিলাম নদীর প্লাবনভূমিতে পুনর্ভরণ কমতে ও বন্যা বাড়তে পারে। আশাক হোসেনের সতর্কতা, নিচু ও ভেজা জমি ধানের জন্যই উপযুক্ত; সেখানে বাগান করলে শিকড় পচা ও রোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অর্থনীতিবিদেরা অবশ্য একমত নন। এজাজ আইয়ুবের মতে, কাশ্মীরের উচিত যেখানে তার সুবিধা, যেমন আপেল, জাফরান, কাঠবাদাম ও আখরোট, তা উৎপাদন করে সেই আয়ে চাল কেনা। কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাভেদ ইকবাল খান একে বলছেন বৃহৎ পরিসরের কাঠামোগত ঝুঁকি: প্রতিটি কৃষকের জন্য সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক, কিন্তু সব মিলিয়ে তা উপত্যকার খাদ্য সরবরাহকে সড়ক, বাজার ও সরবরাহপথের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে।

ছবি: Revoshots / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: Mongabay India

Mongabay Indiaসূত্র

ফসল

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোবিজ

তিন বছরে মাত্র ২২ শতাংশ অগ্রগতি, পার্টনার প্রকল্পে তৃতীয় পরিচালক

প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার কৃষি প্রকল্প পার্টনারের অগ্রগতি তিন বছর তিন মাসে ২২ শতাংশ; ৬ অক্টোবর প্রকল্প পরিচালক বদলে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রকল্প প্রণয়নে যুক্ত ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন শরীফ।

কৃষি সময়১৩ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

কুড়িগ্রামে আমন খেতে ছাতরা পোকা, ওষুধেও কাজ না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষক

কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাটসহ বিভিন্ন এলাকার আমন খেতে ছাতরা পোকার (মিলিবাগ) আক্রমণ দেখা দিয়েছে; কৃষি বিভাগ বলছে খরার কারণে আক্রমণ বাড়তে পারে, মাঠে পরামর্শ ও লিফলেট দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি সময়১৩ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

ভারী যন্ত্রে মাটি শক্ত হলে ফলন কমে বছরের পর বছর: কী করবেন কৃষক

ফার্মিংপোর্টালের একটি নির্দেশিকা বলছে, ভারী অক্ষভারের যন্ত্রে মাটি চেপে শক্ত হয়ে যায়; একবার ১০ টন অক্ষভারের ট্রাক চললে শুকনো বছরে ভুট্টার ফলন ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে, আর চওড়া কম চাপের টায়ার, ভেজা মাটিতে যান না চালানো ও চাষের গভীরতা বদলানো এর প্রতিকার।

ফার্মিংপোর্টাল১৩ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)