বিদেশি বালাই ও রোগের আক্রমণ ঠেকাতে অস্ট্রেলিয়ার শস্য খাত পাঁচ বছর মেয়াদি এক কর্মসূচির মাঝপথে পৌঁছেছে। দেশটির শস্য গবেষণা ও উন্নয়ন করপোরেশন (জিআরডিসি) জানিয়েছে, দ্রুত শনাক্তকরণ ও ক্ষতির পূর্বাভাস দিতে কয়েক ডজন প্রকল্প এখন চলছে।
বাণিজ্য বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার অস্ট্রেলিয়ার হিসাবে ২০২৪-২৫ সালে দেশটির বন্দরগুলো ৯১ লাখের বেশি স্ট্যান্ডার্ড কনটেইনার সামলেছে, যার বেশির ভাগ আমদানি; ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে ব্রিসবেন, ফ্রিম্যান্টল ও অ্যাডিলেড বন্দরে আমদানি যথাক্রমে ৩৪, ৫৫ ও ৬৬ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস। জিআরডিসির হিসাবে বড় কোনো বিদেশি বালাই ঢুকে পড়লে ফসলের ক্ষতি, দমন ও বাণিজ্য মিলিয়ে শস্য খাতের গড়ে প্রায় ১০ কোটি ডলার ক্ষতি হবে।
২০২৪ সালে শুরু হওয়া ন্যাশনাল গ্রেইনস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড সার্ভেইল্যান্স ইনিশিয়েটিভে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার যৌথভাবে বিনিয়োগ করছে জিআরডিসি, কেন্দ্রীয় কৃষি, মৎস্য ও বন বিভাগ এবং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া, সাউথ অস্ট্রেলিয়া, ভিক্টোরিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের কৃষি বিভাগ। দেশে আগে থেকে থাকা বালাই ও রোগ সামলাতেও চাষিদের সাহায্য করা এর লক্ষ্য।
কাজ চলছে চারটি ভাগে। প্রথম ভাগে কিউপিসিআর ও হাই-থ্রুপুট সিকোয়েন্সিংকে শস্য খাতের মানসম্মত শনাক্তকরণ পদ্ধতি করা হচ্ছে; কিউপিসিআর নমুনায় নির্দিষ্ট ডিএনএ বা আরএনএ অংশের পরিমাণ মাপে, আর সিকোয়েন্সিং একটি নমুনা থেকেই, যেমন পোকা বা ছত্রাকের রেণু ধরার ফাঁদ থেকে, একসঙ্গে নানা বালাই, রোগ ও উপকারী জীব চিনতে পারে। এভাবে ৩৮টি বিদেশি ও ৩০টি দেশি বালাই ও রোগের পরীক্ষা তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয় ভাগে মাঠে বা মাঠের কাছেই ১৫টি বিদেশি ও ২০টি দেশি প্রজাতি ৪৮ ঘণ্টার কম সময়ে শনাক্তের ব্যবস্থা গড়া হচ্ছে।
তৃতীয় ভাগে ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশি বালাইয়ের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে আমদানি ও প্রবেশ-পরবর্তী কোয়ারেন্টিনের নিয়ম হালনাগাদ রাখা হচ্ছে, কারণ বাণিজ্য ও জলবায়ু দুটোই বদলাচ্ছে। চতুর্থ ভাগে পূর্বাভাসের কাজ চলছে, যার মধ্যে আছে ডায়মন্ডব্যাক মথের মতো প্রধান বালাইয়ের পূর্বাভাস মডেল এবং অঞ্চলভেদে দেশি রোগজীবাণুর ধরন যাচাই।
২০২৬ সালের প্ল্যান্ট বায়োসিকিউরিটি রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ সম্মেলনে হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে জিআরডিসির জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক ড. অ্যামি কোশেলা (Amy Koschella) বলেন, কর্মসূচিটি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিভাগগুলোকে কাছাকাছি এনেছে এবং তথ্য বিনিময় বেড়েছে। প্রধান পরীক্ষাগুলো কয়েকটি রাজ্যে যাচাই করা হবে, এতে পরীক্ষার নির্ভুলতা নিশ্চিত হবে এবং আরও বেশি পরীক্ষাগার তা চালাতে শিখবে বলে তিনি জানান।
ছবি: Judy Gallagher / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Global Agriculture



মন্তব্য
(০)