দেশের ২৫টি সরকারি জলমহাল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ছয় বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষা, মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং সরকারি রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এসব জলমহাল উন্মুক্ত ও অনলাইনভিত্তিক প্রক্রিয়ায় ইজারা দেওয়া হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদানসংক্রান্ত কমিটির ৯২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
সভায় ২০ একরের বেশি আয়তনের সরকারি জলমহাল ছয় বছরের জন্য ইজারার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। চার জেলার মোট ৩৪টি জলমহালের প্রস্তাব ওঠে: মৌলভীবাজারের ১১টি, রংপুরের একটি, সিলেটের ১৯টি এবং কুষ্টিয়ার তিনটি। যাচাই-বাছাই শেষে ২৫টি জলমহাল ইজারার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া বরিশালের দুর্গাসাগর দিঘি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিল চুড়ইল জলমহাল, হবিগঞ্জের বিল সুতী নদী (বদ্ধ) জলমহাল এবং মৎস্য অধিদপ্তরের নিমগাছি প্রকল্পের ৭৭৯টি পুকুরের মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ইজারা প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। উন্মুক্ত ও অনলাইন ব্যবস্থায় প্রকৃত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিগুলোকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের মাছের উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রান্তিক ও প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যেন কোনো বাধা ছাড়াই সুবিধা পান, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো অন্যায় তদবির না নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে ইজারার সুপারিশ করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী ও সায়রাত অনুবিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মফিজুল ইসলামসহ কমিটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মৌলভীবাজার, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকেরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
প্রতিবেদনটি বার্তা২৪.কমের স্টাফ করেসপন্ডেন্টের পাঠানো খবর অবলম্বনে লেখা।
ছবি: Shariful iea / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); নওগাঁর একটি বিল, প্রতীকী ছবি
সূত্র: বার্তা২৪





মন্তব্য
(০)