ভিয়েতনামের কা মাউ (Ca Mau) প্রদেশে যারা একই জমিতে ধান ও চিংড়ি চাষ করেন, তাদের জন্য ১৯ অক্টোবর নির্ভুল পুষ্টি ব্যবস্থাপনা বা প্রিসিশন নিউট্রিয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট (পিএনএম) নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। হং ডান কমিউনে আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজক আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) ও আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্র (সিআইপি), জানিয়েছে সিজিআইএআর। প্রদেশের কৃষি ও পরিবেশ বিভাগ এবং ভিয়েতনাম রাইস সেক্টর অ্যাসোসিয়েশন ছিল সহযোগী। দুটি সমবায়ের কৃষকেরা অংশ নেন, তাদের মধ্যে নারী ও খেমার জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরাও ছিলেন।
পিএনএম মানে সঠিক পুষ্টি সঠিক মাত্রায়, সঠিক সময়ে ও সঠিক জায়গায় দেওয়া। কা মাউতে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যন্ত্রে সরাসরি ধান বপন ও মাটির গভীরে সার দেওয়ার প্রযুক্তি। এতে সারের অপচয় কমে, উৎপাদন খরচ কমে, পরিবেশের ক্ষতিও কম হয়। তবে মাটি ও পানির অবস্থা, মৌসুমের ওঠানামা আর পরিবারের সীমিত সম্পদের কারণে ধান-চিংড়ি চাষ ব্যবস্থাপনা কঠিন।
আয়োজকদের মতে, শুধু ভালো পরামর্শ দিলেই হয় না; তথ্য, টাকা, শ্রম আর পরিবারে কে সিদ্ধান্ত নেন, তার ওপর নির্ভর করে কৃষক নতুন পদ্ধতি নেবেন কি না। তাই কৃষকদের চারটি দলে ভাগ করা হয়: কিন পুরুষ, কিন নারী, খেমার পুরুষ ও খেমার নারী। তারা আলোচনা করেন খেতের দায়িত্ব, তথ্য কোথা থেকে পান এবং নতুন প্রযুক্তি নিতে কী বাধা। সিআইপির জেন্ডার বিশেষজ্ঞ নোজোমি কাওয়ারাজুকা (Nozomi Kawarazuka) বলেন, এ থেকে বোঝা যায় কাকে যুক্ত করতে হবে আর কারিগরি পরামর্শ কীভাবে বোঝাতে হবে।
প্রদেশের ফসল উৎপাদন ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ দপ্তরের লে কিউ হিউ বলেন, নারী, খেমার কৃষক ও ভিন্ন অবস্থার পরিবারের কথা শুনলে সম্প্রসারণ সেবা স্থানীয় প্রয়োজনমতো সাজানো যায়। ইরির ভিয়েতনাম কার্যালয়ের দিন থি কিম দুং একমুখী সম্প্রসারণ সেবা ছেড়ে এমন পদ্ধতির কথা বলেন, যেখানে কৃষক নিজেই প্রয়োজন চিহ্নিত করেন, সমাধান পরীক্ষা করেন ও মতামত দেন। কর্মশালায় ২০ অক্টোবরের ভিয়েতনামি নারী দিবসও উদ্যাপন করা হয়।
২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ হেক্টরে উচ্চমানের, কম নিঃসরণের ধান চাষের যে কর্মসূচি ভিয়েতনাম নিয়েছে, এ কাজ তারই অংশ। সিজিআইএআরের দুটি কর্মসূচি ও তাইওয়ান-আইসিডিএফের একটি প্রকল্পের অর্থায়নে কর্মশালাটি হয়। ইরি ও সিআইপি জানিয়েছে, কৃষকদের কাছ থেকে যা শোনা গেল, তা দিয়ে তারা প্রশিক্ষণ উপকরণ ও কৃষক সহায়তার পদ্ধতি আরও উপযোগী করবে।
ছবি: Adam Jones / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)