ইলিশের চড়া দাম আর চাহিদার সুযোগ নিয়ে আসল ইলিশের বদলে চন্দনা ও সুরমা মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দেখতে কিছুটা মিল থাকায় অনেক ক্রেতা এসব মাছ ইলিশ ভেবে কিনছেন; হোটেলে রান্না করা মাছে পার্থক্য বোঝা আরও কঠিন। চাঁদপুরের মাছঘাটে এ বছর প্রতি কেজি ইলিশ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় উঠেছে বলে জানা গেছে, আর এই দামই প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
জাতীয় মাছ ইলিশের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha। মাছটি মূলত সাগরে থাকে, প্রজননের জন্য পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ বিভিন্ন নদীতে আসে। ২০১৭ সালে ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়।
চন্দনা (Tenualosa toli) ইলিশের কাছাকাছি প্রজাতি, কিন্তু ইলিশ নয়। ইংরেজিতে এটি টোলি শ্যাড; উপকূল, মোহনা ও জোয়ার-ভাটার নদীতে মেলে। সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে ‘চন্দনা ইলিশ’, চট্টগ্রামে ‘ফুইট্টা ইলিশ’ নামে পরিচিত। গায়ের রং রুপালি, হলদে আভা থাকতে পারে, ফুলকার পেছনে অস্পষ্ট কালচে ছাপ আর ওপরের চোয়ালের মাঝখানে ছোট খাঁজ থাকে; সাধারণত ইলিশের চেয়ে ছোট। বিভ্রান্তি আরও আছে: Sardinella melanura নামের সামুদ্রিক মাছ ‘ব্ল্যাকটিপ সার্ডিনেলা’ বা ‘কালটিপ তাকিয়া’কেও কোথাও কোথাও চন্দনা ইলিশ বলা হয়, যার লেজের ডগা কালো।
সুরমা (Scomberomorus commerson) সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবারের মাছ, ম্যাকেরেল গোত্রের; ইংরেজিতে কিং ম্যাকেরেল, অঞ্চলভেদে ‘ডোরা মাইট্টা’ বা ‘চম্পা’। এর দেহ লম্বাটে, দুই পাশ চাপা, পিঠ নীলচে রুপালি, পেট সাদাটে; শরীরে সারি সারি কালচে খাড়া দাগ আর চোয়ালে করাতের মতো খাঁজকাটা শক্ত দাঁত থাকে।
জাটকা নিয়েও বিভ্রান্তি এড়ানো দরকার: জাটকা ইলিশেরই কিশোর অবস্থা, আলাদা প্রজাতি নয়, অন্যদিকে চন্দনা স্বতন্ত্র প্রজাতি। তাই শুধু ছোট আকার দেখে মাছটিকে চন্দনা বা জাটকা বলা যায় না। আগে সার্ডিন, চৌক্কা, চকোরি ও টাকিয়াসহ নানা মাছ ইলিশ নামে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।
কেনার সময় সম্ভব হলে আস্ত মাছ নিন এবং গঠন, রং ও গায়ের দাগ একসঙ্গে মিলিয়ে দেখুন; একটি বৈশিষ্ট্য দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। হোটেলে ইলিশ অর্ডারের আগে মাছের পরিচয় জেনে নিন। দাম অস্বাভাবিক কম হলে বা বিক্রেতা পরিচয় স্পষ্ট করতে না চাইলে সতর্ক থাকুন। চন্দনা বা সুরমার নিজস্ব পরিচয় থাকলেও এগুলোকে ইলিশ বলে বিক্রি করা ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা।
ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5); ইলিশ
সূত্র: আর টিভি অনলাইন





মন্তব্য
(০)