ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি প্রোটিন ও খাদ্য উপাদানের উৎপাদন বাড়াতে ভারতের হাতে আগে থেকেই বড় উৎপাদন অবকাঠামো আছে, বলছে সাথগুরু ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস (এসএমসি) ও গুড ফুড ইনস্টিটিউট ইন্ডিয়ার (জিএফআই ইন্ডিয়া) একটি গবেষণা। খবরটি দিয়েছে অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম।
"স্মার্ট প্রোটিনের জন্য ভারতের জৈব-উৎপাদন সম্ভাবনার মানচিত্র" শীর্ষক গবেষণা ও একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ড্যাশবোর্ডে ১৭টি রাজ্যের নয় ধরনের জৈব-উৎপাদন খাতের ৪৭৮টি স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে স্মার্ট প্রোটিনের উপযোগী আনুমানিক ১৯ কোটি ৮০ লাখ কিলোলিটার ফারমেন্টার ক্ষমতা পাওয়া গেছে, যার ২ কোটি ৬৪ লাখ ৩০ হাজার কিলোলিটার অলস। ওষুধশিল্প, এনজাইম, চুক্তিভিত্তিক উৎপাদক, ডিস্টিলারিসহ নানা শিল্পের এই অবকাঠামো জৈববস্তু ফারমেন্টেশন ও প্রিসিশন ফারমেন্টেশনে কতটা প্রোটিন উপাদান তৈরি করতে পারে, তা দেখা হয়েছে।
চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, ওষুধশিল্প ও এনজাইম খাতের প্রায় ৭,৭৩৭ কিলোলিটার অলস ক্ষমতা প্রিসিশন ফারমেন্টেশনে কাজে লাগতে পারে। ডিস্টিলারি, ব্রুয়ারি, ওয়াইনারি, প্রোবায়োটিক ও ইস্ট উৎপাদকদের মিলিয়ে প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার কিলোলিটার অলস ক্ষমতা জৈববস্তু ফারমেন্টেশনের উপযোগী। তবে শিল্প ও কারখানাভেদে যন্ত্র বদলের প্রয়োজন ও কারিগরি সম্ভাব্যতা আলাদা।
গবেষণার হিসাবে, প্রিসিশন ফারমেন্টেশনের উপযোগী অলস ক্ষমতার ২০% ল্যাকটোফেরিন তৈরিতে লাগালে ২০২৫ সালের আনুমানিক বৈশ্বিক বাজার (প্রায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার) মেটানো যেত। আর জৈববস্তু ফারমেন্টেশনের উপযোগী অলস ক্ষমতার মাত্র ০.২% দিয়ে ইস্ট প্রোটিনের ২০২৫ সালের বৈশ্বিক বাজারের (প্রায় ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার) সমান উৎপাদন সম্ভব।
জিএফআই ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহা সিং (Sneha Singh) বলেন, ভারতের বিদ্যমান সক্ষমতা দেশি ও আন্তর্জাতিক খাদ্য ও পুষ্টি বাজারের জন্য কম খরচে উৎপাদন বাড়ানোর পথ দেখাতে পারে। তিনি এটিকে সরকারের বায়োই৩ নীতি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ হাজার কোটি ডলারের জৈব অর্থনীতির লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন। সহলেখক রবি আউদিচ্য (Ravi Audichya) বলেন, ভারতে প্রোটিনের ঘাটতি মোকাবিলায় ফারমেন্টেশন প্রযুক্তি সবার জন্য মানসম্পন্ন ও সাশ্রয়ী পুষ্টি আনতে পারে।
ছবি: Utkarshsingh.1992 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম





মন্তব্য
(০)