প্রতি বছর ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দিবস পালিত হয়, ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘রেজিলিয়েন্স স্টার্টস অ্যাট হোম’, অর্থাৎ দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা শুরু হোক পরিবার ও ঘর থেকে। এ উপলক্ষে জাগো নিউজে কলাম লিখেছেন পত্রিকাটির ডেপুটি এডিটর, সাংবাদিক ও কলামিস্ট ড. হারুন রশীদ। লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।
লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিভিন্ন গবেষণায় ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে তিন থেকে পাঁচ লাখ এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়, অথচ ২০০৭ সালের সিডরে মৃত্যু কয়েক হাজারে নেমে আসে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণের বরাতে তিনি লিখেছেন, আশ্রয়কেন্দ্র, আগাম সতর্কবার্তা, উপকূলীয় অবকাঠামো আর কমিউনিটিভিত্তিক প্রস্তুতিই এই পরিবর্তনের বড় কারণ। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) প্রতিটি ইউনিটে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক সংকেত, আশ্রয়, উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা ও ত্রাণের দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করেন।
কিন্তু দুর্যোগের চরিত্র বদলেছে, লিখেছেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী-খাল দখল, জলাভূমি ভরাট আর ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্বাভাবিক বৃষ্টিকেও বিপর্যয়ে রূপ দিচ্ছে; ঢাকার জলাবদ্ধতা তার উদাহরণ, আর বিশ্বব্যাংকের গবেষণাতেও বৃহত্তর ঢাকার নগর বন্যাকে জলবায়ু ও নগর ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভূমিকম্পে প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন লেখক: অসংখ্য ভবন, সরু রাস্তা, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও গ্যাসলাইন এবং উদ্ধারযান ঢোকার বাধা মিলিয়ে বড় ভূমিকম্পে হাসপাতাল, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, পানি ও খাদ্য সরবরাহ সব একসঙ্গে চাপে পড়বে।
তাঁর প্রস্তাব, সড়ক বা হাসপাতাল, স্কুল, কারখানা, আবাসন, যেকোনো প্রকল্পের আগে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, ভূমিধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি যাচাই করতে হবে, আর স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। চর, হাওর বা উপকূলের কোন গ্রামে কতজন প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, শিশু ও গর্ভবতী নারী আছেন, সেই তথ্য স্থানীয় পর্যায়ে হালনাগাদ রাখা দরকার, যাতে দুর্যোগের সময় কাকে আগে সরাতে হবে তা জানা থাকে।
লেখকের মতে, দুর্যোগ থামানো যাবে না, কিন্তু তা যেন বিপর্যয়ে না গড়ায়, সে সিদ্ধান্ত অনেকটাই মানুষের হাতে: সচেতন মানুষ, নিরাপদ ঘর, দায়িত্বশীল নগর পরিকল্পনা আর সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত। নদীভাঙন ও বন্যাপ্রবণ গ্রামের কৃষক পরিবারের জন্য এই প্রস্তুতিই ফসল, গবাদিপশু আর ঘর বাঁচানোর প্রথম শর্ত।
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)