২ অক্টোবর তিন বছর বয়সী বাঘিনী টি১৩৮-কে ছাড়া হয়েছে উত্তরবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে, যেখানে এক দশকের বেশি সময় ধরে একটি স্থায়ী বাঘও টিকিয়ে রাখা যায়নি। বাঘিনীটি এসেছে বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে, একসময় যাকে উপহাস করে বলা হতো 'বাঘহীন ব্যাঘ্র প্রকল্প'। ২০০৩ সাল থেকে বাল্মীকিতে কাজ করা ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার প্রধান পরিবেশবিজ্ঞানী সমীর কুমার সিনহা মোঙ্গাবে ইন্ডিয়ায় এক মতামত লেখায় এর শিক্ষাগুলো তুলে ধরেছেন। মতামত লেখকের নিজস্ব।
টি১৩৮-এর এলাকা পান্ডাই নদীর পূর্বের তৃণভূমিতে, যেখানে দুই দশক আগে ছিল পাথরভাঙা কল আর খননের ট্রাক্টরের সারি। ২০০২ ও ২০০৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে সংরক্ষিত এলাকায় খনন বন্ধ হলে নদীখাতে ঘাস ফেরে, হরিণ ও বুনো শূকর ফেরে, পেছনে আসে বাঘ; ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রকল্পে বাঘের বিচরণ এলাকা ৫১০ থেকে বেড়ে ৭৫০ বর্গকিলোমিটার হয়। একসময় ১২-১৪ মাস বেতন না পাওয়া কর্মীদের বেতন নিয়মিত হয়, ২০১০ সালের পর রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ে, স্থানীয়দের সুরক্ষা দলে নেওয়া হয়। ২০২২ সালে বাল্মীকিতে বাঘ ছিল ৫৪টি।
বক্সার পথ ছিল উল্টো। ২০০৯-১০ সালের দিকে সেখানে বাঘ কমে যায়, ২০১৪ সালের পর কোনো স্থায়ী বাঘের পাকা প্রমাণ মেলেনি। চোরা শিকার, শিকার প্রাণীর অভাব ও আবাসের ক্ষয়কে দায়ী করা হয়; চা-বাগান, শিলিগুড়ি-আলিপুরদুয়ার রেলপথ ও ৩১ নম্বর জাতীয় মহাসড়ক সেই চলাচলপথগুলো কেটে দিয়েছে, যা দিয়ে বাঘ নিজে থেকে ফিরতে পারত। বাল্মীকির ফিল্ড ডিরেক্টর গৌরব ওঝা জানান, গ্রামের কাছে থেকেও টি১৩৮ মানুষের সঙ্গে খুব কম সংঘাতে জড়িয়েছে এবং দক্ষ শিকারি, তাই তাকে বেছে নেওয়া হয়।
সিনহা একটি জিনগত প্রশ্নও তোলেন: ভারতীয় বন্যপ্রাণী ইনস্টিটিউটের ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বক্সা যে উত্তর-পূর্ব ভারতের দলে পড়ে, সেখানকার বাঘ দেশের সবচেয়ে স্বতন্ত্র; গবেষকেরা যথাসম্ভব মানস ও কাজিরাঙা থেকে বাঘ আনার এবং বক্সার নতুন বাঘের জিনগত পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করেছিলেন।
একটি বাঘিনী দিয়ে বাঘের দল হয় না, লেখেন সিনহা; পুরুষসহ আরও বাঘ আনার পরিকল্পনা আছে। সাফল্য নির্ভর করবে শিকার প্রাণীর ওপর, অর্থাৎ আবাস ব্যবস্থাপনা এবং বুনো তৃণভোজীর খাবারে ভাগ বসানো গ্রামের গবাদিপশুর চারণ কমানোর ওপর; আর বক্সা, রায়মোনা, মানস ও ভুটানের ফিবসু অভয়ারণ্যের মধ্যে চলাচলপথ খোলা রাখার ওপর। মানুষের সঙ্গে সংঘাত বাড়ার জন্য আগাম পরিকল্পনা লাগবে, গ্রাম স্থানান্তর হতে হবে স্বেচ্ছায় ও ন্যায্যভাবে, আর বনঘেঁষা গ্রামগুলোর জন্য পর্যটনের বাইরেও জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে, যেখানে চা-বাগানগুলোরও ভূমিকা থাকতে পারে।
ছবি: John and Karen Hollingsworth / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Mongabay India




মন্তব্য
(০)