সারা দেশে ঘরে ঘরে জ্বর, গা ব্যথা, সর্দি-কাশি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. আনোয়ার খসরু পারভেজ ঢাকা পোস্টে এক কলামে লিখেছেন, জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, উপসর্গ; এই মৌসুমে আসল শত্রু অজ্ঞতা আর ভয়। লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।
তাঁর মতে, ডেঙ্গুর আচরণ বদলেছে: আগের মতো কাঁপুনি দেওয়া তীব্র জ্বরের বদলে এখন অনেকের সামান্য বা মাঝারি জ্বর হচ্ছে, তাই একে সাধারণ ফ্লু ভেবে ভুল করার ঝুঁকি বেড়েছে। আসল বিপদ আসে জ্বর কমার পর, সাধারণত তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ দিনে, যখন প্লাটিলেট কমে, রক্তনালি থেকে প্লাজমা বেরিয়ে রোগী ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের দিকে যেতে পারে।
একই সময়ে শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও হাম ফিরে আসছে। লেখক জানান, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় অনেক শিশুর ক্ষেত্রে হাসপাতাল থেকেই সংক্রমণ ছড়ানোর তথ্য মিলেছে এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। একসঙ্গে ডেঙ্গু ও হাম বা ফ্লু ও ডেঙ্গুর দ্বৈত সংক্রমণে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা মারাত্মক চাপে পড়ে।
শিশুর জ্বর খুব বেশি উঠলে তিনি ভারী কাপড়ে না ঢেকে হালকা পোশাক পরিয়ে ঘর ঠান্ডা রাখা এবং ভেজা তোয়ালে না নিংড়ে শরীরে রেখে বারবার পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখার (কন্টিনিউয়াস স্পঞ্জিং) পরামর্শ দিয়েছেন। পানিশূন্যতা ঠেকাতে ফোটানো পানি, ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন ও স্যুপ খাওয়াতে হবে।
ওষুধে সতর্কতার কথা জোর দিয়ে বলেছেন তিনি: ব্যথা ও জ্বরে কেবল চিকিৎসকের অনুমোদিত প্যারাসিটামল; আইবুপ্রোফেন, নাপ্রোক্সেন বা অন্য এনএসএআইডি ব্যথানাশক ডেঙ্গুতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। ডেঙ্গু ও ফ্লু ভাইরাসজনিত, তাই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া চলবে না। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে প্রথম এক থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা ও প্লাটিলেট নজরে রাখার পরামর্শ তাঁর।
শিশুদের সময়মতো হামের টিকা ও ভিটামিন এ নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, এডিস মশা নিধন আর সঠিক তথ্যই এই মৌসুমি ঝুঁকিতে সুরক্ষা দিতে পারে বলে লেখকের মত।
ছবি: মানুষের রক্ত খাওয়া এডিস মশা (ফাইল ছবি), James Gathany, CDC / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ঢাকা পোস্ট




মন্তব্য
(০)