ভারতের উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলের আইসিএআর গবেষণা কমপ্লেক্সের নাগাল্যান্ড কেন্দ্র এক মাঠ দিবসে কৃষকদের সাতটি নতুন ধানের জাত দেখিয়েছে, যাতে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা রাজ্যের আবহাওয়া ও মাটিতে জাতগুলোর ফলাফল নিজেরা যাচাই করতে পারেন, জানিয়েছে আইসিএআর।
২০২৬ সালের এপ্রিলে রাজ্য বীজ উপকমিটির অনুমোদন পাওয়া জাতগুলো ১১৫-১২০ দিনে পাকে এবং হেক্টরে ৫-৭ টন পর্যন্ত ফলন দিতে পারে। এগুলো ব্লাস্ট রোগসহিষ্ণু এবং আর্দ্রতার ঘাটতি বা খরার চাপ মাঝারি মাত্রায় সহ্য করতে পারে। নাগাল্যান্ডের ধানচাষিদের প্রধান সমস্যা, অর্থাৎ দীর্ঘ জীবনকাল, খরার টান এবং রোগ ও পোকার ক্ষতি মোকাবিলায় জাতগুলো উদ্ভাবন করা হয়েছে। নয় বছরের বেশি গবেষণায় প্রায় ৯৯০টি প্রজনন সারি পরীক্ষা করে এগুলো বাছাই করা হয়।
মাঠ দিবসে অংশ নেন ৫৬ জন, যাঁদের মধ্যে ছিলেন সোভিমা, হেনভি, চুমুকেদিমা, ধানসিরিপার ও সিংরিজানের কৃষক, রাজ্য কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ও কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের কর্মীরা। যেসব কৃষক আগেই কয়েকটি জাত চাষ করেছেন, তাঁরা ভালো ফলনের অভিজ্ঞতার কথা জানান; আরও অনেকে জাতগুলো চাষে আগ্রহ দেখান।
নাগাল্যান্ডের কৃষি বিভাগের যুগ্ম সচিব লিমানেনলা বলেন, কম সময়ে পাকা, বেশি ফলন ও চাপ সহনশীলতার কারণে কৃষক কম সময়ে বেশি ফসল তুলতে, ভালো শস্যবিন্যাস গড়তে এবং আয় বাড়াতে পারবেন; তিনি মাঠকর্মীদের রাজ্যজুড়ে জাতগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধান ড. এইচ. কলিতা ধানভিত্তিক চাষকে দক্ষ ও লাভজনক করতে স্বল্পমেয়াদি জাতের ভূমিকার কথা বলেন।
২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল মেডজিফেমায় কেন্দ্রটিতে রাজ্য বীজ উপকমিটির সভায় জাতগুলো অবমুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। নাগাল্যান্ড সরকারের কৃষি উপদেষ্টা মাথুং ইয়ানথান একে রাজ্যের কৃষিতে বড় মাইলফলক বলেন এবং কৃষকেরা যাতে জাতগুলো গ্রহণ করেন, সে জন্য বিভাগগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন।
ছবি: Joli Rumi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আইসিএআর



মন্তব্য
(০)