অক্টোবরের মাঝামাঝি এক সকালে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ক্যামেরা হাতে পাখি খুঁজতে বেরিয়েছিলেন পাখি ও বন্যপ্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ড. আ ন ম আমিনুর রহমান। দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত লেখায় তিনি জানিয়েছেন, বন ও পরিবেশ অনুষদের আমলকী বাগানের মরা ডালে বসে ছিল টকটকে লাল চোখের কুচকুচে কালো একটি পাখি; আধা মিনিটের মধ্যে পাশে এসে বসে সাদা ছিটছোপওয়ালা খয়েরি-বাদামি আরেকটি। কালোটি পুরুষ, অন্যটি স্ত্রী।
দুটি পাখিরই ঠোঁটের চারপাশের পালক ছিল এলোমেলো, ভেজা আর লালচে। কারণ বোঝা গেল একটু পরেই: আমলকী বাগানের নিচে গবেষণার জন্য লাগানো ড্রাগন গাছে প্রচুর ফল, তার কিছু পেকে টকটকে লাল। স্ত্রী পাখিটি নেমে এসে আয়েশ করে একটি পাকা ড্রাগন ফল পুরোটা খেয়ে লাফিয়ে গেল আরেকটির কাছে; লেখক সেই দৃশ্যের ছবি তোলেন ও ভিডিও করেন।
পাখিগুলো এ দেশের অতি পরিচিত আবাসিক পাখি কোকিল, যার আরেক নাম কুলি বা এশীয় কোকিল (Eudynamys scolopacea)। লেখক জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের কক্সবাজারের দরিয়ানগরের উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের বন্যপ্রাণী চেনাতে গিয়ে শুনেছিলেন, স্থানীয়রা পাখিটিকে ডাকেন 'কাকসায়ের'। এক বৃদ্ধের ব্যাখ্যা ছিল, 'ওরা দেখতে কাকের মতো কালো আর গান গায় সুন্দর।'
প্রাপ্তবয়স্ক কোকিল লম্বায় ৪০ থেকে ৪৩ সেন্টিমিটার, ওজন ১৯০ থেকে ৩২৭ গ্রাম। পুরুষের পালক সবুজাভ আভার কালো, ঠোঁট চকচকে সবুজ; স্ত্রীর খয়েরি-বাদামি দেহে অসংখ্য সাদা ছিট ও রেখা, ঠোঁট হালকা ধূসর। দুজনেরই চোখ টকটকে লাল, পা কালো। বাংলাদেশসহ উপমহাদেশ, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় এদের বাস।
কোকিল মূলত একা থাকে, ছোট-বড় নানা পাকা ফল খেতে ভালোবাসে এবং পাতার আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। পুরুষটি 'কু-কুউ-কুহু' সুরে গান গায়, স্ত্রী নীরব। মার্চ থেকে আগস্ট প্রজননকাল; কোকিল নিজে বাসা বানায় না, স্ত্রী কোকিল কাক, হাঁড়িচাচা বা ভাত শালিকের বাসায় নীলচে রঙের দুই থেকে তিনটি ডিম পাড়ে। ডিম ফোটে ১২ থেকে ১৩ দিনে, ছানারা ১৮ থেকে ২০ দিনে উড়তে শেখে। আয়ু চার বছরের বেশি।
ছবি: Hafiz Issadeen / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)