সরবরাহ কম থাকায় ২০২৬ সালের বাকি সময় ও ২০২৭ সালেও যুক্তরাজ্যে গবাদিপশুর দাম পাঁচ বছরের গড়ের ওপরে থাকবে, তবে ভোক্তা চাহিদা দুর্বল এবং আমদানির ধরন বদলানোয় দাম আরও বাড়ার সুযোগ সীমিত। কৃষি ও উদ্যান উন্নয়ন বোর্ডের (এএইচডিবি) গরুর মাংসের বাজার পূর্বাভাসের বরাতে এ কথা জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি।
এএইচডিবির হিসাবে ২০২৬ সালে গরুর মাংস উৎপাদন হবে ৯ লাখ ৪ হাজার টন, আগের বছরের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি, কারণ পশুর সংখ্যা কম হলেও ওজন বেশি। আগামী বছর উৎপাদন নেমে আসবে ৮ লাখ ৯৬ হাজার টনে, প্রাইম গবাদিপশু জবাই ০.৯ শতাংশ কমে ১৯ লাখ ৮০ হাজারে দাঁড়াবে।
প্রতিবেদন বলছে, খুচরা দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা ইতিমধ্যে কম কিনছেন, বিশেষ করে দামি কাটের মাংস, যা খামার পর্যায়ে দাম বাড়ার পথে বাধা। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি খরচে পরিবারের আয়ে চাপ থাকায় ২০২৭ সালেও ভোক্তার আস্থা দুর্বল থাকবে বলে ধারণা।
বাণিজ্যের প্রভাব আরও বড় হতে পারে। ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে গরুর মাংস আমদানি পরিমাণে ২.৪ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার টন এবং মূল্যে ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে ১২৯ কোটি পাউন্ড হয়েছে। ব্রিটিশ ও আইরিশ মাংসের দামের ফারাক বাড়ায় বছর শেষে আমদানি ৩ শতাংশ বেশি থাকবে বলে এএইচডিবির পূর্বাভাস। নজরে রাখতে হবে ব্রাজিলকে, যারা ২০২৬ সালের বাকি সময় ইইউর বাজার হারিয়েছে, আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ বাড়তে থাকা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে।
আরেক অনিশ্চয়তা ব্লুটাং রোগ, যা জুলাই থেকে দেশের কিছু অংশে ছড়াচ্ছে। এএইচডিবির মডেল অনুযায়ী আক্রান্ত পালে প্রজনন ক্ষমতা কমায় ২০২৭ সালে বাছুরের সংখ্যা ১৪ হাজার বা ৩.১ শতাংশ কমতে পারে; প্রাইম পশু জবাইয়ে এর প্রভাব মূলত দেখা যাবে ২০২৯ সালে, যা নির্ভর করবে রোগের বিস্তার ও টিকা গ্রহণের ওপর।
ছবি: Martin Dawes / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)