ভুটান, ভারত ও নেপালের চমরি গাই (ইয়াক) পালকেরা মিলে হিমালয়ের ইয়াক পালক সম্প্রদায়ের প্রথম আঞ্চলিক জোট গড়ছেন। ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর ভুটানের নবম রয়্যাল হাইল্যান্ড ফেস্টিভ্যালে হিমালয়ান ইয়াক হার্ডার্স নেটওয়ার্কের যাত্রা শুরু হবে বলে জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ।
জোটে থাকছে তিনটি জাতীয় সংগঠন: ইয়াক ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া, ভুটান ইয়াক ফেডারেশন এবং নেপালের ইয়াক অ্যান্ড চৌরি ফার্মার্স ফেডারেশন। এটি পরিচালনা করবেন পশুপালকেরাই, সচিবালয় থাকবে ভুটানে। আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড) জানিয়েছে, জোটটি যৌথ দাবি আদায়, জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সীমান্তপারের সহযোগিতায় কাজ করবে।
পশুপালকদের সামনে নানা চাপ: চারণভূমি সংকুচিত ও ক্ষয়প্রাপ্ত, ইয়াকের জিনগত বৈচিত্র্য কমছে, বন্যপ্রাণী গবাদিপশুকে আক্রমণ করছে, বাজার ও মৌলিক সেবায় প্রবেশ সীমিত, সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন আর তরুণদের উচ্চভূমি ছেড়ে চলে যাওয়া। ইসিমোডের তথ্যে, ভূমি ব্যবহারের ধরন বদল ও চারণভূমির অবক্ষয়ে গত কয়েক দশকে তিন দেশেই ইয়াকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
আয়োজকদের হিসাবে হিন্দুকুশ হিমালয়ের ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা চারণভূমি, যার ওপর নির্ভর করেন আনুমানিক আড়াই থেকে তিন কোটি আদিবাসী ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মানুষ।
ভারতে ২০১৯ সালে প্রকাশিত ২০তম পশুশুমারিতে ইয়াক ছিল প্রায় ৫৮ হাজার। ২০২৬ সালে ইয়াক ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে যুক্ত ৫২৬টি পরিবার মিলে প্রায় ৩২ হাজার ইয়াক পালন করে।
আঞ্চলিক জোটের ভাবনা প্রথম আসে ২০১৬ সালে, যখন ইসিমোডের কাঞ্চনজঙ্ঘা ল্যান্ডস্কেপ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিন দেশের পশুপালক, গবেষক ও সরকারি প্রতিনিধিরা একত্র হন। প্রায় এক দশকের সহযোগিতার পর এবার তা আনুষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে।
ছবি: Fanghong / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)