রাঙামাটির পাহাড়ে এবার জাম্বুরার বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ জাম্বুরা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে যাচ্ছে, তাতে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন চাষিরা, লাভ করছেন পাইকারেরাও।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রাঙামাটিতে ১ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন জাম্বুরা উৎপাদিত হয়েছে। এতে কৃষক পর্যায়ে ২০ কোটি টাকা এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে ১০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে।
কাপ্তাই হ্রদ পেরিয়ে দূর পাহাড় থেকে নৌকায় জাম্বুরা আসে রাঙামাটি ট্রাক টার্মিনাল ঘাটে। সেখান থেকে শ্রমিকদের হাত ঘুরে সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী ট্রাকে ওঠে। প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ ট্রাক জাম্বুরা যাচ্ছে সমতলে।
পাইকারি ব্যবসায়ী মো. সোহেল জানান, কিছুদিন আগেও পরিবহন খরচ কম থাকায় ব্যবসা জমজমাট ছিল, কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এখন খরচ বেড়েছে। তবু সমতলে চাহিদা থাকায় ব্যবসা চলছে। চাষি সোহাগ চাকমা বলেন, রাঙামাটির খুচরা বাজারে ভালো দাম মেলে না, আর জাম্বুরা রাখার মতো হিমাগারও নেই, তাই পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে হয়। খুচরায় এক জোড়া জাম্বুরা ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, জাম্বুরা লাভজনক ফল, সহজে পচে না, ফলনও বেশি। অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক চাষাবাদে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। তাঁর ভাষায়, পাহাড়ের জুমচাষিরাও এখন জাম্বুরা আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।
হিমাগার না থাকা আর পরিবহন খরচ বাড়া, এই দুই কারণে চাষির হাতে লাভের বড় অংশ থাকছে না; পাহাড়ি ফলের সংরক্ষণ ও বাজার সুবিধা বাড়ানো তাই এ অঞ্চলের কৃষকদের পুরোনো দাবি।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের রাঙামাটি সংবাদদাতার।
সূত্র: কৃষি সময়



মন্তব্য
(০)