আমের মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন বাগানে এখন ঝুলছে কল্যাণভোগ আম। পুরোনো গাছে নতুন জাতের ডগা জুড়ে দেওয়ার পদ্ধতি টপওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে সহজে জাত বদলানো যায় বলে জেলায় দ্রুত বাড়ছে এ জাতের আবাদ।
জাতটি মূলত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বাজারে আসে, যখন অন্য আমের সরবরাহ কম থাকে, তাই দামও বেশি মেলে। একটি ডগায় একাধিক আম ধরে, প্রতিটির গড় ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম।
২০১৭ সালে গোমস্তাপুরে আমচাষি রবিউল ইসলামের বাগানে ভারত থেকে আনা ছয়টি কল্যাণভোগের সায়ন দিয়ে টপওয়ার্কিং করা হয়। তাঁর কাছ থেকে সায়ন নিয়ে আশপাশের চাষিরা অন্তত ৫০ বিঘা জমিতে কল্যাণভোগের বাগান করেছেন; জেলার অন্য এলাকার চাষিরাও সায়ন ও চারা নিচ্ছেন।
খয়রাবাদ এলাকার বাগানে এবার রবিউল ইসলাম প্রায় ১০০ মণ কল্যাণভোগ পাওয়ার আশা করছেন, বড় অংশ বাগান থেকেই অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। এ মৌসুমে মণপ্রতি দাম ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা, গত মৌসুমে ছিল প্রায় ১৩ হাজার টাকা। গত ৮ থেকে ১০ দিনে প্রায় ৩০ মণ বিক্রি করেছেন তিনি।
আমের পাশাপাশি সায়ন ও চারাও তাঁর আয়ের উৎস। তিনি জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার সায়ন বিক্রি করেছেন, আরও প্রায় ২০ হাজার বিক্রির সম্ভাবনা আছে; প্রতিটি সায়ন ১৫ থেকে ২০ টাকা। চারা বিক্রি করেছেন প্রায় ৩২ হাজার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা কয়েক বছর ধরে ব্যানানা, গৌড়মতি, বারি আম-৪, আম্রপালি ও কাটিমনের মতো জাতের আবাদ বাড়াচ্ছেন। মৌসুমের বাইরে পাকা কল্যাণভোগ সেই তালিকায় নতুন সংযোজন, যা চাষিদের আমের বিক্রির সময় আরও কয়েক সপ্তাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতার।
সূত্র: কৃষি সময়



মন্তব্য
(০)