প্রোটিন শেক হলো দুধ, ডিম বা উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে তৈরি প্রোটিন পাউডারের পানীয়, প্রতি পরিবেশনে সাধারণত ১০ থেকে ৩০ গ্রাম প্রোটিন থাকে; সঙ্গে থাকতে পারে ভিটামিন, খনিজ, চিনি বা কৃত্রিম ফ্লেভার। প্রথম আলোয় রাফিয়া আলম মার্কিন স্বাস্থ্য ওয়েবসাইট ওয়েবএমডি অবলম্বনে লিখেছেন, বেশির ভাগ মানুষের এটি আলাদা করে খাওয়ার দরকার নেই।
প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক প্রতি কেজি ওজনে ০.৮ গ্রাম প্রোটিন লাগে; সে হিসাবে ৭০ কেজির একজনের দরকার ৫৬ গ্রাম। বড় একটি মুরগির ডিমেই প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন; মাছ, মাংস, দুধ, সয়া, ডাল আর কিনোয়া বা মিষ্টিকুমড়ার বীজের মতো খাবারেও প্রোটিন আছে। তাই রোজকার সুষম খাবার থেকেই প্রয়োজন মেটে, আর অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়াও উচিত নয়।
শেক কাজে আসে তাঁদের জন্য, যাঁদের চাহিদা খাবারে পুরো মেটে না: নিরামিষাশী, দুধ সহ্য হয় না এমন মানুষ, বড় আঘাত বা অস্ত্রোপচারের পর সেরে ওঠার সময়, কিংবা দুর্গম ভ্রমণে। পরিশ্রমী খেলাধুলায় দৈনিক প্রতি কেজিতে ১.১ থেকে ১.৪ গ্রাম, প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে ১.২ থেকে ১.৪ গ্রাম, পেশি গঠনকারী ক্রীড়াবিদের ১.৫ থেকে ২ গ্রাম আর আলট্রা-এন্ডুরেন্স ক্রীড়াবিদের ২ গ্রাম পর্যন্ত লাগে। বার্ধক্যে পেশি ধরে রাখতে প্রতি কেজিতে ১.৩৩ গ্রাম; তবে কোনো রোগে প্রোটিনে বিধিনিষেধ থাকলে তা মানতে হবে।
কৈশোরে, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সে, প্রতি কেজিতে ০.৮৮ থেকে ১.১১ গ্রাম আর কিশোর ক্রীড়াবিদের ১.১১ থেকে ১.৭৭ গ্রাম প্রোটিন লাগে; লেখকের পরামর্শ, এ বয়সে শেক এড়িয়ে খাবার থেকেই প্রোটিন নেওয়া ভালো।
কেনার সময় প্রোটিনের মাত্রা ও ক্যালরি দেখে নিতে হবে, চিনি ও কৃত্রিম উপকরণ যতটা সম্ভব এড়াতে হবে। দুধ সহ্য না হলে হুই বা কেসিনের শেক নয়, ডিম, সয়া, চাল বা মটরের শেক বেছে নেওয়া যায়; ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতায় হুই শেকে পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়া হতে পারে, উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ফুসকুড়ি বা ফোলাভাব। কিডনির রোগীদের জন্য বাড়তি প্রোটিন ক্ষতিকর। কিছু শেকে অল্প ভারী ধাতু পাওয়া গেছে, ক্ষতিকর মাত্রায় নয়, তবে অতিরিক্ত খেলে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে।
ছবি: Sandstein / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো


মন্তব্য
(০)