একটি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলাতে আরেকটি ওষুধ যোগ হয়, তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আরও একটি, এভাবে চলা 'প্রেসক্রাইবিং ক্যাসকেড' সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা প্রচলিত, তা দেখতে কানাডার অন্টারিও প্রদেশে একটি নতুন গবেষণা হয়েছে। আমার দেশের স্বাস্থ্য পাতায় বিষয়টি তুলে ধরেছেন ঢাকার গুলশানের সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
গবেষকেরা প্রথমে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ৬৫টি সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ ব্যবহারের ধরন চিহ্নিত করেন। এরপর অন্টারিওর স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডারের প্রেসক্রিপশন রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখেন বাস্তবে এসব সংমিশ্রণ কতটা ঘটছে। তাতে ২৪টি প্রচলিত ও সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রেসক্রাইবিং ধরন শনাক্ত হয়েছে।
লেখকের ব্যাখ্যা, বয়স বাড়লে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগ ও আর্থ্রাইটিসের মতো একাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগ একসঙ্গে থাকার প্রবণতা বাড়ে, ফলে একাধিক ওষুধও লাগে। সেখানেই অনিচ্ছাকৃত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
চিকিৎসকদের জন্য তাঁর পরামর্শ, দীর্ঘদিন চলা ওষুধ নির্দিষ্ট সময় পরপর এখনো দরকার কি না তা পর্যালোচনা করা, উপকারের চেয়ে ঝুঁকি বেশি হলে তত্ত্বাবধানে ডোজ কমানো, পরিবর্তন বা বন্ধ বিবেচনা করা, আর নতুন উপসর্গে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি ওষুধ যোগের আগে কারণ খুঁজে দেখা, বিশেষত বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে।
রোগীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রেসক্রিপশনের কোনো ওষুধ বন্ধ, পরিবর্তন বা ডোজ বদলাবেন না। কোন ওষুধ কবে থেকে কেন খাচ্ছেন তার হালনাগাদ তালিকা রাখুন এবং চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে দেখান। ওষুধ শুরুর পর নতুন উপসর্গ দেখা দিলে তা বর্তমান ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি না, আগে যাচাই করুন।
লেখাটি আমার দেশের স্বাস্থ্য পাতার; মতামত লেখকের নিজের।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)