দুই বছরের মন্দার পর যুক্তরাজ্যে আলুর খোলাবাজারের দাম বেড়েছে, কিন্তু এ বছরের গ্রীষ্মের তাপের কারণে সংরক্ষিত আলু সামলাতে বাড়তি সতর্কতা লাগবে। ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজশায়ারের চাষি স্টিভ এজলি পাঁচ ধরনের গুদামে ৫ হাজার টন পর্যন্ত আলু রাখার পরিকল্পনা করছেন, জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি।
এজলি পরিবার ২০০ হেক্টরে আলু চাষ করে, মূলত ফিশ অ্যান্ড চিপসের দোকানের জন্য। এ বছর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জমিতে সেচ ছিল, যদিও স্লুইসগেট বন্ধ বা সীমিত করায় কিছু খেতে পানির টান পড়ে, নালা শুকিয়ে যায়। সেচ আর সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনায় খরার মধ্যেও গাছ সবুজ ছিল, যা অঙ্কুর দমনকারী ম্যালেইক হাইড্রাজাইডের কার্যকারিতা বাড়িয়েছে। তাঁর কথায়, গুদামে যাওয়ার সব আলুতেই এটি দেওয়া হয়েছে, কাজ করেছে কি না গুদামই বলবে।
তাঁর দুশ্চিন্তা আলুর খোসা শক্ত হওয়া নিয়ে। আবহাওয়া বদলে যাওয়ায় তিনি গাছ কাটার যন্ত্র না চালিয়ে শুধু রাসায়নিক দিয়ে গাছ শুকিয়েছেন, আর তাঁর মতে এমন চাপের বছরে ফসল রাসায়নিক ভালোভাবে নেয় না। ছোট ও কম শুষ্ক পদার্থের আলু, যেগুলোতে সহজে থেঁতলানো দাগ পড়ে, আগে বের করা হয়।
আগাম ফসল যায় ৫০০ টনের দুটি খোলা গুদামে, যা সাধারণত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টেকে। বাকিটা থাকে ১,৫০০ টনের দুটি বাক্সভিত্তিক গুদাম ও ১,০০০ টনের একটি হিমাগারে, প্রায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে; সেখানে চার-পাঁচ সপ্তাহ পরপর ডিএমএন দেওয়া হয়। ডিএমএন দেওয়ার পর বিক্রির আগে ৩০ দিন অপেক্ষা করতে হয়, তাই গুদাম খালি করার আগে তিনি কমলার তেল (আর্গোস) বা পুদিনার তেলে যান। এখন প্রায় ৯০ শতাংশই আর্গোস, কারণ পুদিনার দীর্ঘস্থায়ী গন্ধ গুদামের পচনের গন্ধ ঢেকে দিতে পারে।
চুক্তিভিত্তিক বিক্রিই অতিরিক্ত সরবরাহের দুই মৌসুমে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে বলে জানান তিনি: গত বছর ৬৬ শতাংশ আলু টনপ্রতি ৩৫০ পাউন্ডে চুক্তিতে ছিল, যখন খোলাবাজারে গড় দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ পাউন্ড। এ বছর চুক্তির দাম ৩০০ পাউন্ডে নামায় তিনি কম চুক্তি করেছেন, আর সেপ্টেম্বরে খোলাবাজারে গড় দাম উঠেছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ পাউন্ডে। তবে দাম লাগামছাড়া বাড়ুক তা তিনি চান না; বসন্তে টনপ্রতি ৭০০-৮০০ পাউন্ড হলে চিপসের দোকানগুলো টিকতে পারবে না বলে তাঁর আশঙ্কা।
ছবি: Georg Slickers / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farmers Weekly




মন্তব্য
(০)