আফ্রিকার দেশি সবজির উন্নত জাত ও বীজ নিয়ে কাজের জন্য ২০২৬ সালের নরম্যান বোরলগ মাঠ গবেষণা ও প্রয়োগ পুরস্কার পেয়েছেন ইস্ট-ওয়েস্ট সিড পশ্চিম আফ্রিকার গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যবস্থাপক পামেলা আফোকপে (Pamela Afokpe)। রকফেলার ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ৪০ বছরের কম বয়সী মাঠ বিজ্ঞানীদের দেওয়া এই পুরস্কার তিনি ২০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ার ডেস মইনে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে গ্রহণ করেন, জানিয়েছে গ্লোবাল অ্যাগ্রিকালচার।
তাঁর কাজের কেন্দ্রে গবোমা (Solanum macrocarpon, এক ধরনের আফ্রিকান বেগুন), ডাঁটা বা অ্যামারান্থ এবং পাট শাক (Corchorus olitorius), যেগুলো আফ্রিকার খাদ্যতালিকায় বহুদিনের হলেও প্রাতিষ্ঠানিক বীজ খাতে উপেক্ষিত। ২০১৭ সালে ভাড়া করা এক টুকরো জমি আর হাতে সেচ দিয়ে বেনিনে আন্তর্জাতিক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় কৃষি ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পাসে কাজ শুরু করে তিনি পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে ২,০০০-র বেশি জাত সংগ্রহ ও মূল্যায়নের কর্মসূচি গড়ে তোলেন।
কৃষকেরা এসব সবজিতে সবসময় নিজের রাখা বীজই ব্যবহার করবেন, এই ধারণাকে তাঁর গবেষণা চ্যালেঞ্জ করেছে; আসল বাধা উপযুক্ত উন্নত বীজের অভাব। সবচেয়ে পরিচিত ফল গবোমার জাত সিকা, যা রালস্টোনিয়া ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগে মাঝারি সহনশীল এবং তোলার পর বেশিদিন টাটকা থাকে।
ছিটিয়ে বোনার বদলে নির্ভুল চারা উৎপাদন পদ্ধতি চালু করেন তিনি, যাতে ইস্ট-ওয়েস্ট সিডের হিসাবে কৃষকের উপকরণ খরচ ৪০ শতাংশ কমেছে। নারী বিক্রেতাদের সঙ্গে সংরক্ষণকাল প্রদর্শনীতে দেখানো হয়, কম পচনে তাঁদের দৈনিক আয় বাড়ে; চাহিদা এতটাই বাড়ে যে কেউ কেউ ফসল ওঠার আগেই কৃষকের খেত থেকে আগাম বুকিং দেন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যে প্রথম তিন বছরে সিকা থেকে ৩,০০০ টনের বেশি সমতুল্য ফসল এসেছে, পৌঁছেছে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার হাজারো ক্ষুদ্র কৃষক ও নারী বিক্রেতার কাছে।
নেদারল্যান্ডসের ভাখেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাট শাকের জিনগত বৈচিত্র্য ও পোকা প্রতিরোধ নিয়ে পিএইচডি গবেষণাও করেছেন আফোকপে। দেশি ও স্বল্পব্যবহৃত ফসলকে খাদ্য নিরাপত্তায় কাজে লাগানোর ভিশন ফর অ্যাডাপ্টেড ক্রপস অ্যান্ড সয়েলস উদ্যোগের লক্ষ্যের সঙ্গে তাঁর কাজ মিলে যায়।
ছবি: Hans B. / উইকিমিডিয়া কমন্স (public domain)
সূত্র: Global Agriculture




মন্তব্য
(০)