উত্তর পর্তুগালের মিনিউ অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার মানুষের শহর গিমারাইশ (Guimarães), যেখানে গ্রীষ্মে তাপমাত্রা এখন ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে, জার্মানির হাইলব্রন ও অস্ট্রিয়ার ক্লাগেনফুর্টকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের ইউরোপীয় সবুজ রাজধানী হয়েছে, জানিয়েছে ইউরোনিউজ। ইউরোপীয় কমিশন বাতাসের মান, শব্দ, পানি, জীববৈচিত্র্য ও সবুজ এলাকা, বর্জ্য ও পুনর্ব্যবহার এবং জলবায়ু প্রশমন ও অভিযোজন, এই সাত ক্ষেত্রে শহরগুলোকে মূল্যায়ন করে।
এই স্বীকৃতির পেছনে আছে এক দশকের বেশি সময়ের সবুজ করিডর তৈরি, জলধারা পুনরুদ্ধার ও বর্জ্য কমানোর কাজ। শহরের সবুজ অবকাঠামো পরিকল্পনা অরীয় ধাঁচের: ২০০১ সাল থেকে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত পুরোনো কেন্দ্র থেকে চারদিকে ছড়ানো করিডর, যা পার্ক, নদী, কৃষিজমি ও বনকে জোড়ে; লক্ষ্য সবুজ আচ্ছাদন ও জীববৈচিত্র্য বাড়ানো এবং নগরের তাপদ্বীপ কমানো।
পানি এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে। আভে ও ভিজেলা নদী বিনোদন ও শহর ঠান্ডা রাখা দুই কাজেই লাগে, তীর ধরে তৈরি হয়েছে কম প্রভাবের পায়ে হাঁটার পথ। কাজের সমন্বয় করে ২০১৪ সালে পৌরসভা, মিনিউ বিশ্ববিদ্যালয় ও ত্রাস-উস-মন্তেস ই আল্ত দোরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলে গড়া ল্যান্ডস্কেপ ল্যাবরেটরি।
ল্যাবরেটরির প্রধান কার্লোস রিবেইরো (Carlos Ribeiro) বলেন, তাপপ্রবাহজনিত রোগ বাড়ছে, তাই শহর বদলাতে হবে; তাঁর কাছে নগর পরিকল্পনা এখন জনস্বাস্থ্যের বিষয়: সবুজ এলাকাগুলো যুক্ত থাকতে হবে, আর সবচেয়ে বড় কথা, মানুষকে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। তাঁর ভাষায়, তাঁরা তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি কমাতে পেরেছেন।
সংখ্যাটি আন্দাজে নয়, গবেষণায় পাওয়া। ল্যান্ডস্কেপ ল্যাবরেটরি ও মিনিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা টেক্সাস ও কলম্বিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলে দশ বছরের স্যাটেলাইট ছবি দিয়ে শহরের সবুজ উদ্যোগের প্রভাব মেপেছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ ছাদ ও নগর বাগান যেখানে হয়েছে, সেখানে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২.৪৯ ডিগ্রি পর্যন্ত কমেছে; তবে অর্জন ধরে রাখতে আরও শক্ত পরিবেশনীতি লাগবে বলে লেখকেরা সতর্ক করেছেন।
ছবি: Ramón from Llanera / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ইউরোনিউজ




মন্তব্য
(০)