মরুভূমির ফল হিসেবে পরিচিত সৌদি খেজুর এখন পাবনার মাটিতেও ফলছে। আটঘরিয়া উপজেলার গুরুবাসী গ্রামের কৃষক সাইফুদ্দিন হিরু পরীক্ষামূলকভাবে খেজুর চাষ শুরু করে তিন বছরেই সাফল্য পেয়েছেন। তাঁর বাগানে এখন মরিয়ম ও আজওয়া জাতের গাছ, যার কয়েকটিতে ফল এসেছে।
২০২২ সালে শখের বশে মাত্র ১০টি খেজুরের বীজ লাগিয়ে শুরু করেন হিরু। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা আর মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য সত্ত্বেও তিনি থামেননি। নিয়মিত পরিচর্যায় সেই ছোট উদ্যোগ এখন বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বাগান।
বর্তমানে বাগানে প্রায় ১৫০টি খেজুরগাছ আছে। ফলের পাশাপাশি নিজেই কলম ও বীজ থেকে উন্নত জাতের চারা তৈরি করছেন তিনি, নতুন উদ্যোক্তাদের চারা ও পরামর্শ দিতেও আগ্রহী। হিরুর মতে, সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে খেজুর চাষে ভালো লাভের সম্ভাবনা আছে।
বাগান দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও খেজুর চাষে আগ্রহ বাড়ছে। দেখতে আসা অনেকে তাঁর কাছ থেকে চারা নিয়ে নিজের জমিতে চাষের পরিকল্পনা করছেন।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আগ্রহী কৃষকদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা; খেজুর চাষে আগ্রহীদের নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি চলছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দেশে বাণিজ্যিকভাবে খেজুর চাষ ছড়ালে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং গ্রামে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। যাঁরা খেজুর চাষে নামতে চান, তাঁদের জন্য হিরুর অভিজ্ঞতা দেখায়: শুরু ছোট পরিসরে, ধৈর্য আর নিয়মিত পরিচর্যা, সঙ্গে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ।
ছবি: ফলসহ খেজুরগাছ, Forest & Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)