সাতক্ষীরার মাছের ঘেরের পাড়ে এখন অসময়ের তরমুজ ঝুলছে। লোনা পানির ঘেরের যে উঁচু বাঁধ (ভেড়ি) একসময় পড়ে থাকত, সেখানে মাচা বেঁধে তরমুজ আর সবজি ফলিয়ে চাষিরা মাছের পাশাপাশি বাড়তি আয় করছেন। লাভ হওয়ায় এ চাষ দ্রুত ছড়াচ্ছে।
চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১৪১ হেক্টর জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬৫ হেক্টর বেশি। তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নে দেখা গেছে, ঘেরে মাছ, চারপাশের ভেড়িতে তরমুজ, আর কোনো কোনো ঘেরের মাচায় করলা, বরবটি ও শসা।
নগরঘাটার কৃষক কৃষ্ণ মন্ডল মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে তরমুজ করে এরই মধ্যে প্রায় এক লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন; খেতে যা আছে, তা থেকে আরও দেড় লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছেন। আরেক কৃষক নিরঞ্জন বলেন, লোনা ঘেরের আইলে ফসল হবে, এমন ধারণা আগে কারও ছিল না; কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে উন্নত বীজ আর পরিচর্যায় তরমুজের সঙ্গে করলা, বরবটি ও ঢেঁড়সেরও ভালো ফলন পেয়েছেন।
চারা লাগানো, মাচা বাঁধা থেকে ফল তোলা পর্যন্ত সব কাজে বাড়ির নারীরাও যুক্ত। চাষিরা জানান, চৈত্র-বৈশাখে কোনো কোনো এলাকায় পানির লবণাক্ততা ১২ থেকে ১৫ পিপিটিতে ওঠে; সেখানে প্রথাগত ফসল অসম্ভব হলেও উন্নত বীজ ও বিশেষ পদ্ধতিতে সাফল্য মিলছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাবে, সমতল জমিতে বিঘাপ্রতি তরমুজ চাষে ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়, বাজারদর ভালো থাকলে বিক্রি হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। এলাকায় এখন সুপ্রিম হানি, ব্ল্যাক বেবি, তৃপ্তি, সুগারকুইন ও বাংলালিংকের মতো উচ্চফলনশীল জাত চাষ হচ্ছে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ জানান, ২০২০ সাল থেকে প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন তরমুজের চাষ বাড়ানোর কাজ চলছে। অনিয়মিত বৃষ্টি আর হঠাৎ আবহাওয়া বদলের ঝুঁকি সামলাতে বিশেষজ্ঞরা টেকসই সেচ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছেন।
ছবি: তরমুজখেত (কক্সবাজার), Milli Tami / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)