পিরোজপুরের নেসারাবাদ উপজেলার খালগুলো ঘিরে গড়ে উঠেছে ফলদ, বনজ ও শোভাবর্ধক গাছের চারার বিশাল বাণিজ্য। উপজেলার প্রায় ৩৮টি গ্রামের ৫০০ হেক্টর জমিজুড়ে নার্সারি, আর সপ্তাহে দুই দিন মাহমুদকাঠির শীতলা খালে নৌকায় বসে ঐতিহ্যবাহী ভাসমান নার্সারি হাট, জানিয়েছে দিনাজপুর টিভি।
সোম ও শুক্রবার ভোর থেকে সকাল আটটা-নয়টার মধ্যে কেনাবেচা শেষ হয়। প্রতিটি হাটে আনুমানিক পাঁচ থেকে সাত লাখ চারা বিক্রি হয়, যার দাম এক কোটি টাকার বেশি। মাহমুদকাঠি, অলংকারকাঠি, স্বরূপকাঠি, আটঘর, কুড়িয়ানা, আরামকাঠিসহ আশপাশের এলাকা থেকে চাষিরা নৌকায় চারা নিয়ে আসেন; দরদামের পর এক নৌকা থেকে আরেক নৌকায় চারা ওঠে, লেনদেন হয় নগদে।
এই হাটের চারা যায় ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, ফরিদপুর, বাগেরহাট, সিলেট ও রাজশাহীসহ দেশের নানা প্রান্তে। নার্সারিতে চারার জন্য বিশেষ দোআঁশ মাটি তৈরি করা হয়; বীজের পাশাপাশি জোড়কলম, চোখকলম ও গুটিকলমে উন্নত জাতের ফলের চারা তৈরি হয়। আম, মাল্টা ও নানা জাতের লেবুর কলমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, আর চারা রাখা হয় পোড়ামাটির ছোট পাত্র ও প্লাস্টিক ব্যাগে।
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় তিন হাজার মানুষ এই কাজে যুক্ত। বীজ থেকে চারা তোলা, পাত্রে মাটি ভরা আর পরিচর্যায় নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। খাল থেকে পাইপ ও সংযোগ খালে পানি এনে নার্সারির চারা সতেজ রাখা হয়।
একসময় বসতবাড়ির আঙিনা বা পতিত জমিতে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া চারা চাষ এখন দক্ষিণ উপকূলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শত বছরের পুরোনো এই পেশা এখন হাজারো পরিবারের জীবিকার প্রধান ভরসা।
ছবি: পিরোজপুরের কুড়িয়ানা খালে নৌকায় ভাসমান হাট (প্রতীকী), Muktar Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)