ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশনের (আইআরইএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টে ভারতের চাল রপ্তানি আয় ১২.৯% বেড়ে ৪৫,৭৩৯ কোটি রুপি হয়েছে, জানিয়েছে অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম। বাসমতি থেকে এসেছে ২২,৮৬৪ কোটি রুপি, আগের বছরের চেয়ে ১১.৬% বেশি; নন-বাসমতি থেকে ২২,৮৭৪ কোটি রুপি, ১৪.২% বেশি। এগুলো রুপিতে আয়ের হিসাব, চালানের পরিমাণ নয়।
সামনের চিত্র নির্ভর করছে উৎপাদন ও মজুতের ওপর। প্রতিকূল আবহাওয়ায় ভারতের চাল উৎপাদন ২০২৫-২৬ সালের প্রায় ১৫ কোটি ৪০ লাখ টন থেকে ২০২৬-২৭ সালে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টনে নামবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। তবে আইআরইএফ বলছে, সরকারি মজুত ৩ কোটি ৮০ লাখ টনের বেশি, যা অক্টোবরের মজুত মানদণ্ড ১ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টনের প্রায় চার গুণ; এতে খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানির ভারসাম্য রাখা যাবে। ইউএসডিএর হিসাবে ২০২৭ সালে ভারতের চাল রপ্তানি হবে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টন।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, দামের মতোই নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। আইআরইএফের জাতীয় সহসভাপতি দেব গর্গ বলেন, প্রণোদনা তখনই কাজে লাগে, যখন তা পাওয়া যায়, দাবি করা যায় এবং ব্যবসায় বাস্তব সুবিধায় রূপ নেয়। আইআরইএফের কাকিনাড়া অঞ্চলের সহসভাপতি ও অন্ধ্র প্রদেশের রপ্তানিকারক সিএলআরকের পরিচালক বিপিন আগরওয়াল বলেন, আফ্রিকা ও এশিয়ার দামসংবেদনশীল বাজারে নন-বাসমতি রপ্তানিকারকদের জন্য ধারাবাহিক নীতি ও সময়মতো প্রণোদনা বিশেষ জরুরি, কারণ জাহাজভাড়া, আমদানি শুল্ক বা রপ্তানির নিয়ম বদলালেই একটি চালানের হিসাব বদলে যায়।
২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ভারত আন্তর্জাতিক চাল সম্মেলন (বিআইআরসি) ২০২৬-এ এসব বিষয় আলোচনা হবে; ২৪ অক্টোবরের একটি অধিবেশনে বাণিজ্য প্রকল্প, প্রণোদনা, রপ্তানি ঋণ, বিমা ও গুদাম রসিদের বিপরীতে অর্থায়ন নিয়ে কথা হবে। প্রস্তাবিত ফল হিসেবে তৈরি হবে একটি "রাইস এক্সপোর্ট পলিসি ওয়াচ", যা আগামী ১২ মাসে ভারতের চাল বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে এমন পাঁচটি নীতিগত পরিবর্তন চিহ্নিত করবে।
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রপ্তানিকারক; তাই দেশটির মজুত ও রপ্তানির নিয়ম এশিয়া ও আফ্রিকার আমদানিকারকদের জন্য দাম ঠিক করে, ঘাটতির বছরে বাংলাদেশের জন্যও।
ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম





মন্তব্য
(০)