২০১৮ সালে বগুড়ায় বেড়াতে গিয়ে একটি কমলাগাছ দেখে কৌতূহল হয়েছিল আবু রায়হান ফারুকের। কুড়িগ্রামের এক নার্সারি থেকে একটি চারা এনে বাড়ির আঙিনায় লাগান, পরের বছরই তাতে কমলা ধরে। সেই স্বাদে ভরসা পেয়ে শতাধিক চারা কিনে এক বিঘা জমিতে লাগান; প্রথম বাণিজ্যিক ফলনেই বিক্রি হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকার কমলা। আজ কুড়িগ্রাম সদরের বেলগাছা ইউনিয়নের মুক্তারাম গ্রামে সাড়ে সাত একরে দাঁড়িয়েছে তাঁর সমন্বিত খামার ‘কাজী এগ্রো ফুড রিসোর্ট অ্যান্ড ইকোপার্ক’। ফারুক জানান, গত বছর তিনি প্রায় ৩২ লাখ টাকার ফল ও চারা বিক্রি করেছেন।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে উদ্ভিদবিদ্যা পড়া ফারুক চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে আত্মকর্মসংস্থানের পথ হিসেবে বেছে নেন। ডাল কলম (গ্রাফটিং) করে নিজেই কমলার বাগান বাড়িয়েছেন; এখন দুই বিঘায় কমলা, এ বছর প্রায় তিন লাখ টাকার কমলা আর প্রায় তিন লাখ টাকার কমলার চারা বিক্রি করেছেন।
ফুলবাড়ীর এক ব্যাংক কর্মকর্তার ছাদবাগানে বাইকুনুর জাতের আঙুর দেখে আঙুরে আগ্রহী হন তিনি। ২০২১ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আনা কয়েক জাতের প্রায় ২০০ চারা দিয়ে এক বিঘায় বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন, পরে কলম করে আরও দুই বিঘায় বাড়ান। ফারুকের দাবি, এটিই দেশের প্রথম বাণিজ্যিক আঙুরবাগান। এ বছর প্রায় ৩ লাখ টাকার আঙুর আর ১০ লাখ টাকার চারা বিক্রি করেছেন; জাত ও আকারভেদে আঙুরের চারা ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।
খামারে দুই বিঘায় আমের বাগান, কাটিমন ও বারি আম-৪ জাতের প্রায় ৫০০ গাছ থেকে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকার আম বিক্রি হয়। আছে প্রায় চার হাজার সুপারিগাছ; একই জমিতে সুপারি, আম, মাল্টা, আপেল ও আঙুরের গাছ, আর আঙুরের মাচার নিচে আদা। প্রায় দুই বিঘায় নার্সারিতে ভালো ফলনের গাছের ডাল থেকে কলম করে চারা তৈরি হয়, যা দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ভারতেও যাচ্ছে। খামারে ছয়জন নিয়মিত শ্রমিক কাজ করেন; একসময়ের দিনমজুর আবদুর রহিম (৫৫) এখন মাসিক বেতন পান।
নাগেশ্বরীর আরিফ নার্সারির স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে ৭ অক্টোবর এসেছিলেন কমলা ও মাল্টার ডাল নিতে। তাঁর ভাষায়, ‘ফারুক ভাইয়ের কমলার আকার বড় এবং স্বাদও ভালো।’ ফারুকের বিশ্বাস, বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ বাড়লে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, ভবিষ্যতে রপ্তানিও সম্ভব।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নাহিদা আফরীন বলেন, শুরু থেকেই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগান ঘুরে পরামর্শ দিচ্ছেন; কেউ এমন খামার করতে চাইলে কৃষি বিভাগ সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেবে। প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর মো. জাহানুর রহমানের।
ছবি: Evan-Amos / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); কমলার প্রতীকী ছবি
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)