ভারতের বেঙ্গালুরুর আইসিএআর-ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব হর্টিকালচারাল রিসার্চ (আইসিএআর-আইআইএইচআর) ফসল-পরবর্তী গরম পানিতে শোধনের এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করেছে, যা এক দফাতেই আমের ফলের মাছি ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগ দমন করে, জানিয়েছে অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম। এতে প্রক্রিয়াকরণের সময় কমবে, পচন কমবে, আর আলফানসো আমের ভেতরে নষ্ট হওয়ার সমস্যাও এড়ানো যাবে।
পদ্ধতিতে পরিপক্ব সবুজ আম প্রথমে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরম পানিতে ২০ মিনিট, তারপর ৫% লবণপানিতে ৩০ মিনিট চুবিয়ে রাখা হয়। এত দিন ফলের মাছি দমনে ৪৮ ডিগ্রিতে ৬০ মিনিট গরম পানি লাগত, যাতে আলফানসোর ভেতরটা নষ্ট হতে পারে; আর অ্যানথ্রাকনোজের জন্য আলাদা করে ৫২ ডিগ্রিতে ৫ থেকে ১০ মিনিট। দুটো একসঙ্গে হওয়ায় প্যাকহাউস ও রপ্তানিকারকের একটি ধাপ কমে। আলফানসো, বাঙ্গানাপাল্লি এবং আইআইএইচআরের হাইব্রিড আরকা উদয় ও আরকা সুপ্রভাতে বড় পরিসরের পরীক্ষায় পদ্ধতিটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
এই পদ্ধতিতে শোধন করা ১.২ টন বাঙ্গানাপাল্লি আম ২০২৬ সালের ২৫ জুন চেন্নাই থেকে বিমানে ব্রুনাই পাঠানো হয়, রপ্তানিকারক ইয়েলাহাঙ্কার মিলেট স্মাইলের স্বত্বাধিকারী হাসিনা রোশন। ক্রেতা নিশ্চিত করেছেন, আম ভালো অবস্থায়, ফলের মাছি ও অ্যানথ্রাকনোজমুক্ত পৌঁছেছে।
যেসব বাজারে অনুমোদিত উদ্ভিদ-সংগনিরোধ শোধন বাধ্যতামূলক, সেখানে রপ্তানিতে এটি ব্যবহার করতে ভারতের উদ্ভিদ সুরক্ষা, সংগনিরোধ ও সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগবে। আইআইএইচআর বলছে, অনুমোদন মিললে ৬০ মিনিটের প্রচলিত শোধনের তুলনায় সময় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমবে। ব্যাপক ব্যবহার নির্ভর করবে আরও চালানে যাচাই আর বাণিজ্যিক পর্যায়ে খরচের ওপর।
অনেক আমদানিকারক দেশে ফলের মাছি সংগনিরোধের বাধা, আর অ্যানথ্রাকনোজ গুদামে পচনের বড় কারণ; ভারতের মতো বাংলাদেশের আম রপ্তানিকারকদের জন্যও। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেনে নিলে দুটো সমস্যার এক দফার, স্বল্প সময়ের এই শোধন কাজের হাতিয়ার হতে পারে।
ছবি: Thamizhpparithi Maari / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম





মন্তব্য
(০)