বগুড়া সদর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের কৃষক কামাল হোসেনের পাঁচ বিঘার বাগানে ওপরের স্তরে পেঁপে, নিচে হলুদ আর মৌসুমি সবজি। পেঁপের সারির মাঝের জমি ফেলে না রেখে সাথি ফসল করে একই জমি থেকে তিনি তুলছেন বাড়তি আয়, আর নিজের তৈরি চারা বিক্রি করে আরেকটি।
চার বছর আগে এক বিঘায় পেঁপে দিয়ে শুরু; এখন পাঁচ বিঘা। প্রায় আট বছর ধরে শাহী জাতের পেঁপে নিয়ে কাজ করছেন। আগে ফুলকপি, বেগুন, আলু করতেন; কৃষি বিভাগের পরামর্শে পেঁপেতে আসেন। কৃষি তথ্য সার্ভিসের এক গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সমকাল লিখেছে, উপযুক্ত সাথি ফসলে একই জমির উৎপাদনশীলতা ও মুনাফা বাড়ে; একে মাপা হয় ল্যান্ড ইকুইভ্যালেন্ট রেশিও (এলইআর) দিয়ে, যা একের বেশি হলে আন্তঃফসলে জমির বাড়তি সুবিধা ধরা হয়, আর হলুদের সঙ্গে বিভিন্ন সাথি ফসলে তা দুইয়ের বেশি পাওয়া যায়।
কামালের হিসাবে একটি পেঁপেগাছ প্রায় দুই বছর ফল দেয়: প্রথম বছর পাকা, পরের বছর কাঁচা পেঁপে। গড়ে ফল দুই থেকে তিন কেজি, কোনোটি ছয়-সাত কেজি; মৌসুমে গাছপ্রতি দুই থেকে চার মণ। কৃষি বিভাগের তথ্যে পেঁপেতে পাঁচ-ছয় মাসে ফুল আসে, আট-নয় মাসে পাকা ফল তোলা যায়। এবার পাঁচ বিঘায় খরচ প্রায় চার লাখ টাকা, যার বড় অংশ বাঁশ, সার ও জৈব সারে; সাড়ে চার বিঘার পাকা পেঁপে থেকে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন, যদিও জমির মূল্য, পারিবারিক শ্রম আর পরিবহন খরচ এ হিসাবে ধরা নেই। পাশের বাইপাস সড়ক ধরে পেঁপে দ্রুত যায় বগুড়ার চেলোপাড়া পাইকারি বাজারে।
নিজের বীজে চারা তৈরি করে এ বছর প্রায় দুই হাজার শাহী পেঁপের চারা বিক্রি করে বাড়তি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তাঁর বাগান দেখে কৃষক লাভলু প্রায় ৫০ শতকে পেঁপে করেছেন; ফলন ভালো, তবে এ মৌসুমে দাম কিছুটা কম থাকায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না, যদিও লোকসানের আশঙ্কাও নেই বলে জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মাহফুজ আলম জানান, জেলায় এখন প্রায় ৬৫০ হেক্টরে পেঁপে, ১০,২০২ হেক্টরে গ্রীষ্মকালীন আর ১,২৩৭ হেক্টরে আগাম শীতকালীন সবজি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কে এম মনসুর রহমান জানান, গত বছরও কামাল ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। কামালের পরামর্শ, নিয়মিত সার আর গাছের মধ্যে সঠিক দূরত্ব রাখলে ফলন ও ফলের আকার ভালো হয়; তাঁর কথায়, ‘পেঁপেতে দাম একটু কম হলেও লাভ থাকে।’
ছবি: Anna Frodesiak / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0); পেঁপেবাগানের প্রতীকী ছবি
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)