২০২৬ সালে ৪৫টি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা মান নতুন করে তৈরি বা সংশোধনের পরিকল্পনা করেছে চীন, যা দেশটিতে পণ্য পাঠানো খাদ্য উৎপাদক, উপকরণ সরবরাহকারী ও কৃষিপণ্য রপ্তানিকারকদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, জানিয়েছে অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম। মার্কিন কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষি সেবার (ইউএসডিএ-এফএএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনাটি প্রকাশ করে।
কয়েকটি সংশোধন খাদ্য সংযোজক নিয়ে, যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড, প্রাকৃতিক ক্যারোটিন এবং সানসেট ইয়েলো, অ্যামারান্থ, পনসো ৪আর ও এরিথ্রোসিনের মতো রং; সংযোজক ব্যবহারের সাধারণ মানও সংশোধন হবে। প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষিত মাংস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং লবণে জারানো ও সংরক্ষিত সবজির মান সংশোধন হবে; প্রাণিজ প্রোটিন পেপটাইড, কেসিনেট, ইস্ট নির্যাস, অ্যাসিডে ভাঙা প্রোটিনের মসলা, ডি-অ্যালুলোজ ও ক্রিম পাউডারের জন্য নতুন মান আসবে।
পরিকল্পনায় পরীক্ষার পদ্ধতিও আছে: খাদ্যের সংস্পর্শে আসা উপকরণ থেকে ভিনাইল অ্যাসিটেট বেরোনো, খাবারে অর্গানোটিন ও ফ্লোরিন নির্ণয়, এবং চায়ের পলিফেনল, কারকিউমিন ও কয়েকটি ভিটামিনের মতো উপাদান মাপার নতুন পদ্ধতি। ক্লস্ট্রিডিয়াম পারফ্রিনজেনস এবং প্রাণঘাতী বিষ বংক্রেকিক অ্যাসিড তৈরিকারী বার্কহোল্ডেরিয়া গ্ল্যাডিওলাই জীবাণুর পরীক্ষার মান সংশোধন হবে; খাবারে হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাস শনাক্তের নতুন পদ্ধতিও আসছে। জার্মেনিয়াম গামা-রশ্মি বর্ণালিবীক্ষণে খাবারে তেজস্ক্রিয় পদার্থ মাপার পদ্ধতিও তালিকায় আছে।
পরিকল্পনাটি জানাচ্ছে কোথায় নিয়ম বদলাবে, চূড়ান্ত শর্ত বা কার্যকরের তারিখ নয়। খসড়াগুলো জনমত যাচাইয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার এসপিএস ও টিবিটি কমিটিকে জানানো হবে। ইউএসডিএ-এফএএসের তথ্যে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা মান ছিল ১,৭২৫টি। প্রতিবেদনটি করেছেন সুচেতনা চৌধুরী।
দক্ষিণ এশিয়াসহ যেকোনো দেশ থেকে চীনে কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানিকারকদের জন্য বাস্তব পরামর্শ হলো: পরিকল্পিত পরিবর্তন আর বর্তমানে কার্যকর নিয়ম আলাদা করে দেখা, খসড়া প্রকাশ ও ডব্লিউটিওর বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখা, আর পণ্যের বিবরণ ও পরীক্ষাপদ্ধতি হালনাগাদের জন্য প্রস্তুত থাকা।
ছবি: U.S. Food and Drug Administration / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম





মন্তব্য
(০)