সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়াই সেপসিস। সংক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে শরীরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিজেই কিডনি, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের মতো অঙ্গের কাজ ব্যাহত করে; দ্রুত চিকিৎসা না হলে একাধিক অঙ্গ বিকল, সেপটিক শক, এমনকি মৃত্যু হতে পারে। প্রথম আলোয় ঢাকার গ্রিনরোডের ইউনিকো হাসপাতালের একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ বিষয়ে লিখেছেন।
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের সংক্রমণ জটিল হলে সেপসিস হতে পারে। নিউমোনিয়া এর অন্যতম সাধারণ কারণ; কিডনি বা মূত্রনালির সংক্রমণ, পেরিটোনাইটিস, অ্যাপেন্ডিসাইটিসের মতো পেটের সংক্রমণ, সেলুলাইটিস, সংক্রমিত ক্ষত, মেনিনজাইটিস, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী বা ক্যাথেটার-সম্পর্কিত সংক্রমণ থেকেও হতে পারে। বয়স্ক, নবজাতক, অন্তঃসত্ত্বা নারী, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, কিডনি বা লিভারের রোগী আর যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাঁদের ঝুঁকি বেশি।
লেখকের ভাষায়, সংক্রমণের সঙ্গে এর যেকোনো দুটি থাকলে প্রাথমিকভাবে সেপসিস ধরে নেওয়া যায়: শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি বা ৯৬.৮ ডিগ্রির কম, হৃৎস্পন্দন মিনিটে ৯০ বারের বেশি, শ্বাস মিনিটে ২০ বারের বেশি। অঙ্গ বিকল হওয়ার লক্ষণ হলো প্রচণ্ড বিভ্রান্তি বা অসংলগ্ন কথা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, তীব্র শ্বাসকষ্ট ও রক্তে অক্সিজেন কমা, জন্ডিস, প্লাটিলেট দ্রুত কমা, আর সিস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মিলিমিটার পারদের নিচে নামা। সবচেয়ে বিপজ্জনক ধাপ সেপটিক শক, যখন স্যালাইনেও রক্তচাপ ফেরে না।
সেপসিস মেডিকেল ইমার্জেন্সি; হাসপাতালে, প্রয়োজনে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা লাগে। ব্যাকটেরিয়াজনিত সন্দেহে দ্রুত শিরায় উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, রক্তের কালচার রিপোর্ট দেখে ওষুধ বদলানো হয়; রক্তচাপ কমলে স্যালাইন, অক্সিজেন কমলে অক্সিজেন বা ভেন্টিলেশন, স্যালাইনেও রক্তচাপ না বাড়লে নর-অ্যাড্রিনালিনের মতো ওষুধ। পুঁজ নিষ্কাশন, সংক্রমিত ক্যাথেটার সরানো বা অস্ত্রোপচারে সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণ আর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণও চিকিৎসার অংশ।
প্রতিরোধের মূল কথা সংক্রমণ এড়ানো আর শুরুতেই চিকিৎসা। খাওয়ার আগে, শৌচাগারের পরে, হাঁচি-কাশির পর সাবান-পানিতে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া; কাটা-ছেঁড়া ধুয়ে শুকানো পর্যন্ত ব্যান্ডেজে ঢেকে রাখা; ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার টিকা সময়মতো নেওয়া; ডায়াবেটিস, কিডনি বা ফুসফুসের রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়া এবং কোর্স শেষ করা। কাঁপুনি, জ্বর, তীব্র ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে বলেছেন লেখক।
ছবি: Norbert Kaiser / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5); নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের প্রতীকী ছবি
সূত্র: প্রথম আলো


মন্তব্য
(০)