অকেজো মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, ফ্রিজ আর ব্যাটারি কোথাও ঘরে পড়ে থাকে, কোথাও ভাঙারির দোকানে যায়, কোথাও তামা বের করতে পোড়ানো হয় তার ও প্লাস্টিক। এতে সিসা, পারদ ও ক্যাডমিয়াম ছড়াচ্ছে মাটি, পানি ও বাতাসে। ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য দিবসে সমকাল জানিয়েছে, দেশে ই-বর্জ্য সংগ্রহ, নিরাপদ প্রক্রিয়াজাত ও পুনর্ব্যবহারের সমন্বিত ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ২০২৫ সালজুড়ে করা গবেষণা, প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর, বলছে ভোক্তা পর্যায়ে ই-বর্জ্য সংগ্রহের প্রায় ৯৭ শতাংশ হয় অনানুষ্ঠানিক খাতে; এ কাজে পরিবেশ অধিদপ্তরে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান মাত্র সাতটি। বিটিআরসিতে নিবন্ধিত ১৪টির সাতটিই পরিবেশ অধিদপ্তরে নিবন্ধিত নয়। ২০২১ সালে বিধিমালা হলেও সংগ্রহকেন্দ্র নেই, সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট জায়গাও নেই।
টিআইবির ৬৭৫ জনের অনলাইন জরিপে ৮৮ শতাংশ বলেছেন, অকেজো পণ্য নিরাপদে ফেলার কোনো নির্দেশনা পান না; ৭২ শতাংশের ঘরে এমন পণ্য পড়ে আছে, ৭৩ শতাংশ কখনো ফেরত নেওয়ার প্রস্তাব পাননি। কাস্টমসের তথ্যে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালে ১৪,৯৮৫ টন ই-বর্জ্য উপাদান আমদানি আর ৪,০৪০ টন রপ্তানি হয়েছে; কিছু পাইকার নজরদারি ছাড়াই সার্কিট বোর্ড বিদেশে পাঠাচ্ছেন, আর কিছু নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাসেল কনভেনশনের অনুমোদনের চেয়ে বেশি রপ্তানির অভিযোগ আছে।
দেশে বছরে কত ই-বর্জ্য তৈরি হয়, তার পূর্ণ হিসাব নেই। এক সমীক্ষায় ২০১৬ সালে ৩ লাখ ১০ হাজার টন, ২০১৮ সালে ৪ লাখ টন; বছরে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি ধরলে ২০৩৫ সালে তা ৪৬ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে বছরে ২৮ থেকে ৩০ লাখ টন, সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৫,৫০০ থেকে ৬,০০০ কোটি টাকা। জাতিসংঘের গ্লোবাল ই-ওয়েস্ট মনিটর ২০২৪ অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বে ৬ কোটি ২০ লাখ টন ই-বর্জ্য তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্যবিদদের মতে সিসা শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর বিকাশে বাধা দেয়, পারদ স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে, ক্যাডমিয়াম কিডনি ও হাড়ের। সবচেয়ে ঝুঁকিতে গ্লাভস ও মাস্ক ছাড়া কাজ করা শ্রমিক আর আশপাশের বাসিন্দারা; বিষাক্ত উপাদান মাটি-পানিতে মিশে কর্মস্থলের বাইরেও ছড়ায়। অথচ ই-বর্জ্যে আছে তামা, সোনা, রুপা, অ্যালুমিনিয়াম ও প্যালাডিয়াম: টিআইবির হিসাবে ঢাকার অনানুষ্ঠানিক সংগ্রহস্থলের বছরে ১,১৭৩ টন থেকেই প্রায় ৩১ টন তামা, যার দাম সাড়ে ৩ কোটি টাকার বেশি, উদ্ধার সম্ভব। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, বিষাক্ত অংশ আলাদা নিষ্পত্তি, শ্রমিকের সুরক্ষা আর উৎপাদক ও আমদানিকারকের জবাবদিহি ছাড়া এ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে না।
ছবি: Umbrela Verde / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0); ইলেকট্রনিক বর্জ্যের প্রতীকী ছবি
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)