ভারতের বাজারে বিক্রি হওয়া পাঁচটি উদ্ভিজ্জ মাংসজাত পণ্য যে মুরগির পণ্যের অনুকরণে তৈরি, সেগুলোর চেয়ে বেশি শোষণযোগ্য প্রোটিন দিয়েছে। গবেষণাগারে এ পরীক্ষা চালিয়েছে সিএসআইআর-হিমালয়ান বায়োরিসোর্স টেকনোলজি ইনস্টিটিউট (CSIR-IHBT) ও গুড ফুড ইনস্টিটিউট (GFI) ইন্ডিয়া, জানিয়েছে অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম।
গবেষকেরা পণ্যগুলো রান্না করে ইন ভিট্রো পরিপাক পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেন; এই পদ্ধতিতে গবেষণাগারে মানুষের পরিপাকের কিছু ধাপ অনুকরণ করা হয়। উদ্ভিজ্জ পণ্যে প্রোটিনের জৈবলভ্যতা মিলেছে ৫৭ থেকে ৮৬ শতাংশ, প্রচলিত মুরগির পণ্যে ২১ থেকে ৪৩ শতাংশ। দুটি উদ্ভিজ্জ শিক কাবাবে ৮১ ও ৮৬ শতাংশ, মুরগির শিক কাবাবে ৩৯ শতাংশ; দুটি বার্গার প্যাটিতে ৫৭ ও ৫৮ শতাংশ, মুরগিতে ২১ শতাংশ; আর উদ্ভিজ্জ নাগেটে ৬১ শতাংশ, মুরগিতে ৪৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনেই ফলাফলের সীমা টানা হয়েছে। মাত্র পাঁচটি বাণিজ্যিক পণ্য গবেষণাগারের মডেলে পরীক্ষা করা হয়েছে; ইন ভিট্রো হিসাব একা প্রমাণ করে না যে বাস্তবে মানুষের শরীর কতটা প্রোটিন শোষণ করে, কিংবা উদ্ভিজ্জ মাংস সার্বিকভাবে মুরগির চেয়ে বেশি পুষ্টিকর। মূল কথা হলো, প্রোটিন বিচার করতে হবে মোড়কের গ্রামের হিসাবে নয়, অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠন, হজমযোগ্যতা আর জৈবলভ্যতা দিয়ে; প্রক্রিয়াজাতকরণও পরিপাকের জন্য প্রাপ্য প্রোটিনের পরিমাণ বদলে দিতে পারে।
"প্রোটিন কোয়ালিটি অ্যান্ড বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটি অব ইনডিজেনাস ক্রপ-বেসড ইনগ্রেডিয়েন্টস অ্যান্ড প্ল্যান্ট-বেসড মিট প্রোডাক্টস ইন ইন্ডিয়া" শীর্ষক প্রতিবেদনটি নয়াদিল্লির সিএসআইআর বিজ্ঞান কেন্দ্রে উপস্থাপন করা হয়; সেখানে সিএসআইআর, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, গেইন, আইটিসিসহ শিক্ষা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের খাদ্য-প্রোটিনের প্রায় অর্ধেক আসে দানাশস্য থেকে; আর ডাল ও মিলেটের অন্যতম বড় উৎপাদক হয়েও দেশটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন আইসোলেটের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে, যার বেশির ভাগ সয়া ও মটর থেকে তৈরি।
সিএসআইআর-আইএইচবিটির পরিচালক ড. সুদেশ কুমার যাদব (Sudesh Kumar Yadav) বলেন, "বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিলেট ও ডাল উৎপাদক হয়েও ভারত বেশির ভাগ উদ্ভিজ্জ প্রোটিন কনসেনট্রেট ও আইসোলেট আমদানি করে।" জিএফআই ইন্ডিয়ার জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও সহলেখক পদ্মা ঈশ্বরিয়া (Padma Ishwarya) বলেন, এই খাত শুধু প্রোটিনের গ্রাম নয়, তার বাইরেও পুষ্টির কথা বলে বাজারজাত করতে পারে।
দেশি ফসলকে নির্ভরযোগ্য খাদ্য-উপাদানে রূপ দিতে লাগবে উপাদানের মান নির্ধারণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, ফর্মুলেশন দক্ষতা আর মান নিয়ন্ত্রণ। প্রতিবেদনের মতে, এতে কৃষক ও দেশি উৎপাদকেরা নতুন বাজার পেতে পারেন, তবে তা নির্ভর করবে সংগ্রহ ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ আর টেকসই চাহিদার ওপর। গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বাণিজ্যিকীকরণ দ্রুত করতে শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি জোট গড়ার প্রস্তাব দেন; তবে দাম, স্বাদ আর সুবিধাই শেষ পর্যন্ত ক্রেতার সিদ্ধান্ত ঠিক করবে।
ছবি: Mk2010 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: AgroSpectrum





মন্তব্য
(০)