গ্রিনহাউসে টমেটোর ফুলে পরাগায়নের জন্য এখন বাজারে এসেছে স্বয়ংক্রিয় রোবট 'পলি' (Polly), জানিয়েছে ফার্মস ডটকম। আরুগা (Arugga)-র এই রোবট কয়েকটি কৃষিপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি; ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যিক গ্রিনহাউসে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে এটি পরীক্ষা করা হয়েছে।
টমেটো গাছ নিজেই পরাগায়ন করে, তবে ফুলের ভেতরে পরাগ ঠিকমতো ঝরে ও ছড়ালে তবেই ফল ভালো ধরে। কম আলো, প্রচণ্ড গরম বা অন্য চাপে পরাগায়ন কমে যায়, সঙ্গে কমে ফলন ও মান। শীতে ছোট দিন, জ্বালানি বাঁচানোর পর্দা আর বাড়তি কৃত্রিম আলো গ্রিনহাউসের ভরসা ভোমরা মৌমাছির কাজ ধীর করে দেয়; গ্রীষ্মে অতিরিক্ত গরমেও একই অবস্থা হয়।
পলি ক্যামেরা আর ছবি শনাক্তের সফটওয়্যার দিয়ে গাছ দেখে, পরাগায়নের উপযোগী ফুল বেছে নেয়, তারপর নিয়ন্ত্রিতভাবে ছোট ছোট বাতাসের ঝাপটা দিয়ে পরাগ ঝরিয়ে ফল ধরাতে সাহায্য করে। চাষি রোবটটিকে সারির শুরুতে বসিয়ে দেন, স্বয়ংক্রিয় ভিত্তির ওপর এটি সারা দিন প্রায় তদারকি ছাড়াই কাজ করে; গতি বাড়ায় এখন একটি রোবট এক হেক্টর পর্যন্ত গ্রিনহাউস সামলাতে পারে।
বায়োবেস্টের পরাগায়ন বিভাগের প্রোডাক্ট ম্যানেজার জর্ডেন ভ্যান ডি ওয়াল (Jorden van de Walle) বলেন, "আরুগার রোবট ভোমরা মৌমাছির সঙ্গে মিলে কাজ করার জন্যই তৈরি। পরিবেশের কারণে মৌমাছির কাজ কমে গেলেও পরাগায়ন যেন নিয়মিত থাকে, সেই বাড়তি নিশ্চয়তা দেয় এটি।"
মাঠ পরীক্ষায় ফলন বেড়েছে ২ থেকে ৬ শতাংশ, যা বড় বাণিজ্যিক গ্রিনহাউসের লাভে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আনতে পারে। রোবটটি ভাড়ায় নেওয়া যায়, তাতে রক্ষণাবেক্ষণ, ওয়ারেন্টি, কারিগরি সহায়তা ও যন্ত্রাংশ বদল অন্তর্ভুক্ত; আবার সরাসরি কেনাও যায়।
শ্রমিক সংকট, বাড়তি খরচ আর ধারাবাহিক ফলনের চাপে গ্রিনহাউসে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের চাহিদা বাড়ছে; নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের কৃষি যত বাড়ছে, পরাগায়নের মতো কাজও তত যন্ত্রের হাতে যাচ্ছে।
ছবি: Lemur12 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)