নতুন মুক্তবাণিজ্য চুক্তিতে ভারতের বস্ত্র ও পোশাকের রপ্তানি চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে এল নিনো ও খরায় তুলার ফসল কমছে; ফলে দেশটিতে তুলার ঘাটতি আরও তীব্র হবে বলে পুনে থেকে জানিয়েছে দ্য ইকোনমিক টাইমস। দেশীয় উৎপাদন ৩.৪ শতাংশ কমে নতুন সর্বনিম্নে নামবে বলে ধারণা।
২০২৫-২৬ সালে ১৭০ কেজির বেলে আমদানি রেকর্ড প্রায় ৭১ লাখ বেলে পৌঁছেছে, আগের বছর যা ছিল ৫৭ লাখ ৪০ হাজার বেল; গত এক মাসে দাম বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি। শিল্পসংশ্লিষ্টরা এর একটি কারণ বলছেন আমদানি শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়া: ভারত ১ জুন থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কাঁচা তুলায় ১১ শতাংশ শুল্ক মওকুফ করেছিল। ১ অক্টোবর নতুন তুলা বছর শুরুর পর থেকে মানদণ্ড গুজরাট ২৯ মিলিমিটার তুলার দাম ক্যান্ডিপ্রতি ৪,৫০০ রুপি বেড়ে ৬৮,৫০০ রুপি হয়েছে।
সাউদার্ন ইন্ডিয়া মিলস অ্যাসোসিয়েশন (সিমা) সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে চিঠিতে জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ সালে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ বেল তুলা ব্যবহার হয়েছে এবং আমদানি হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ বেল। সংগঠনের মহাসচিব কে সেলভারাজু জানান, গত দুই মাসে যুক্তরাজ্য থেকে রপ্তানি চাহিদা বেড়েছে এবং বাণিজ্যচুক্তির কারণে আগামী মৌসুমে চাহিদা ৩ কোটি ৬০ লাখ বেল ছাড়াতে পারে। তাঁর ভাষায়, এল নিনো ও খরায় কয়েকটি অঞ্চলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, উৎপাদন ২ কোটি ৮০ লাখ বেলের নিচে নামতে পারে; তাতে ঘাটতি ৯০ লাখ বেল ছাড়িয়ে মানসম্মত তুলার সংকট হতে পারে। ২০২৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি কার্যকর হলে চাহিদা আরও বাড়বে।
কম ফসলের প্রত্যাশা ও শুল্ক ছাড় বাড়ানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় দেশে তুলার দাম ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ওপরে উঠে গেছে। খান্দেশ জিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রদীপ জৈন বলেন, তুলার দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুতার দাম না বাড়ায় জিনিং কঠিন হয়ে পড়েছে, আর কৃষকেরা আরও দামের আশায় তুলা ধরে রাখছেন।
মাঠের চিত্র তুলে ধরে শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, আর্দ্রতার অভাবে এবার অনেক কৃষক মাত্র একবার তুলা তুলে জমি অন্য ফসলের জন্য খালি করেছেন, ফলনও কমবে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন জয়শ্রী ভোঁসলে।
ছবি: Bhaskaranaidu (Bt cotton crop at Nagarjuna Sagar, India) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Economic Times Agriculture/Food





মন্তব্য
(০)