রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আমন ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকা দমনে কীটনাশকের বদলে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন কৃষকেরা। ধানক্ষেতের আইলে বা মাঝে পোঁতা ধইঞ্চা গাছ, ডাল আর বাঁশের কঞ্চিতে বসে ফিঙে, শালিক, বুলবুলি ও দোয়েলের মতো পাখি পোকা ধরে খাচ্ছে।
পার্চিং দুই রকম। ডেড পার্চিংয়ে জমিতে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি বা খুঁটি পুঁতে দেওয়া হয়; লাইভ পার্চিংয়ে লাগানো হয় ধইঞ্চা বা অন্য কোনো জীবিত গাছ, যাতে পাখি বসতে পারে।
কৃষি বিভাগ জানায়, আমনের প্রধান শত্রু মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা ও লেদা পোকার মথ। পার্চিংয়ে বসা পাখি এসব পোকা ও কীড়া খেয়ে ফেলে, ফলে ডিম পাড়ার আগেই অনেক পোকা মরে যায় এবং প্রাকৃতিকভাবেই বংশবিস্তার কমে।
কৃষকেরা বলছেন, এতে কীটনাশকের খরচ কমছে, পরিবেশও দূষণমুক্ত থাকছে, আর পাখির বিষ্ঠা জমিতে জৈব সার হিসেবে মাটির উর্বরতা বাড়াচ্ছে। গদাই গ্রামের ধানচাষি শাহজাহান মণ্ডল পুরো ক্ষেতেই পার্চিং করেছেন; তাঁর ধান এবার সবুজ ও সতেজ। নিজপাড়া গ্রামের নাছির উদ্দিন বলেন, পদ্ধতিটি কার্যকর ও কম খরচের, তাই কীটনাশক বাদ দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সালাহউদ্দিন বলেন, কম খরচে প্রাকৃতিকভাবে পোকা দমন, কীটনাশক কমানো আর পরিবেশ রক্ষায় পার্চিং একটি কার্যকর ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ কৃষক এবার এটি ব্যবহার করেছেন, প্রশিক্ষণের ফলে আগের চেয়ে বেশি জমিতে পার্চিং হয়েছে।
মাঠে এখন কোথাও শিষ বেরিয়েছে, কোথাও ধান পাকতে শুরু করেছে। কৃষকদের আশা, কীটনাশকের খরচ ছাড়াই কিছুদিনের মধ্যে সোনালি ধান ঘরে তুলবেন।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন কৃষি সময়ের রংপুর সংবাদদাতা।
ছবি: ফিঙে (Black drongo), Mdvipbabu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)